কলকাতা : পালাবদলের পর বিপাকে 'বিশ্বাস ব্রাদার্স'। একদিকে যখন ভাই স্বরূপকে শ্রীলতাহানি সহ বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, অন্যদিকে তখন দাদা অরূপও মেসি-কাণ্ড নিয়ে বিপাকে। কলকাতায় মেসির অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্তের করা অভিযোগের ভিত্তিতে অরূপকে সমন পাঠানো হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ জুনের মধ্যে হাজিরা দিতে বলা হয় টালিগঞ্জের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে। কিন্তু তিনি হাজিরা এড়িয়ে যান। আর হাজিরা এড়াতেই আরও বিপাকে। মেসিকাণ্ডে প্রথম সমন এড়ানোর পর ফের দ্বিতীয়বার তলব করল পুলিশ।
বৃহস্পতিবার মেসি-কাণ্ডের তদন্তে প্রথম সমন এড়ালেন রাজ্যের প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে হাজিরার জন্য ২ সপ্তাহ সময় চান তিনি। বিধাননগর দক্ষিণ থানার পুলিশকে চিঠি দিয়ে এই কথা জানান অরূপের আইনজীবী। এবার দ্বিতীয়বার তলব করল পুলিশ। সোমবার প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে হাজিরার নির্দেশ পুলিশের। বিধাননগর দক্ষিণ থানায় এসে হাজিরার নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
কোন কোন ধারায় মামলা হয়েছে অরূপের বিরুদ্ধে ?
উল্লেখ্য, সরকার বদলের পরই খুলছে মেসিকাণ্ডের ফাইল। মেসি কাণ্ডে জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরই প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের দিকে আঙুল তুলেছিলেন শতদ্রু দত্ত। এরপর অরূপ বিশ্বাস ও জুঁই বিশ্বাসের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা শতদ্রু। তৎকালীন DGP রাজীব কুমারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি।
অরূপদের বিরুদ্ধে মোট পাঁচটি ধারায় FIR হয়েছে। সেই এফআইআরের পরই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে তলব করে পুলিশ। যদিও গ্রেফতারির আশঙ্কায় আগাম জামিন চেয়ে আদালতে দ্বারস্থ হয়েছেন অরূপ। ধারাগুলো হল -
১.অভিন্ন উদ্দেশ্য ৩(৫) ২.তোলাবাজি ৩০৮(২) ৩. প্রতারণা ৩১৮(৪) ৪. অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন ৩৫১(২) ৫. অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ৬১(২)
কী ঘটেছিল সেদিন?
যুবভারতীতে মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। কার্যত ঘাড়ে উঠে মেসির সঙ্গে ছবি তোলার নির্লজ্জ প্রচেষ্টা করেন নেতা, মন্ত্রী, VVIP ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। লিওনেল মেসির গায়ে কার্যত লেপ্টে ছিলেন তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নেতা-মন্ত্রীদের উপদ্রবে মাত্র ১৫-২০ মিনিট পরেই মাঠ ছাড়েন মেসিরা। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পান না দর্শকরা। এরপর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সকলে। গ্যালারি থেকে ছোড়া হয় বোতল, মাঠে ঢুকে তাণ্ডব চালায় অনেকে, ভাঙচুর চালানো হয়। কিন্তু অনুমতি ছাড়া এত দর্শক মাঠে ঢুকলেন কীভাবে? তাঁদের কাছে জলের বোতলই বা কোথা থেকে এল? নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে যায়। দায়ের হয় একাধিক মামলা। তৃণমূল সরকার থাকাকালীন এই মামলা নিয়ে কাটাছেঁড়া না হলেও, সরকার পরিবর্তন হতেই খুলে গেল মেসি কাণ্ডের ফাইল।
