কলকাতা: আশা কর্মীদের বিক্ষোভে তুলকালাম পরিস্থিতি। আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে রাজ্যজুড়ে তুলকালাম। জেলায় জেলায় কলকাতামুখী আন্দোলনরত আশা কর্মীদের ধরপাকড়। পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙেই এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা। অনেকেই ব্যারিকেডের উপরে উঠে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে, যদিও মহিলা পুলিশ কর্মীরা তাঁদের নামিয়ে দেন। আজ শহরের একাধিক জায়গায় জমায়েত করেছেন আশা কর্মীরা। সব জায়গাতেই অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এক আশা কর্মী।
বিক্ষোভ চলাকালীনই এক আশা কর্মী ভিড়ের মধ্যে অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। কোনওরকমে জল ছিটিয়ে, পাখার বাতাস করে তাঁকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন বাকিরা।
এদিন, ১৫ হাজার টাকা বেতন-সহ কয়েকদফা দাবিতে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি আশা কর্মীদের। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন আশা কর্মীরা । এই অভিযানে অশান্তির আশঙ্কা ঘিরে এদিন সকাল থেকেই স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ছিল।
১০ দফা দাবিতে একমাস ধরে রাজ্যজুড়ে কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন আশা কর্মীরা। তাঁদের প্রধান দাবিদাওয়ার মধ্যে রয়েছে, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতন। কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য। বকেয়া ইনসেনটিভ মেটানো এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি।
গত ৭ জানুয়ারিও আশাকর্মীদের বিক্ষোভ ঘিরে স্বাস্থ্যভবনের সামনে তুলকালাম পরিস্থিতি তৈরি হয়। আশা কর্মীদের দাবি, তাঁদের দাবিদাওয়া শোনার জন্য বুধবার স্বাস্থ্য ভবনে সময় দিয়েছিল কর্তৃপক্ষই। সেইমতো এদিন জেলার নানা প্রান্ত থেকে স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে জমায়েত কর্মসূচি নেন তাঁরা। তারপরেও কেন পদে পদে পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হল, সেই প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন তাঁরা।
আশাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধস্তাধস্তির ছবি ধরা পড়েছে হাওড়া স্টেশনে। আশাকর্মীদের রুখতে এদিন কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। বেনফিশ মোড় গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে দেয় পুলিশ। স্বাস্থ্য ভবনের সামনের রাস্তার আরেক প্রান্তে, নবদিগন্ত অফিসের সামনে লোহার প্রাচীর খাড়া করেছিল পুলিশ।
এদিকে, এই ঘটনা নিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'বর্বর সরকার। ইতর পুলিশ। মহিলাদের উপরে যেভাবে অত্য়াচার করেছে গোটা রাজ্যজুড়ে আশা দিদি-বোনেদের উপরে, এটা সমর্থন করা যায় না।আর কয়েকদিন আছে, এপ্রিল মাসে বিদায় হবে।'