কলকাতা: আজ ফের স্বাস্থ্য ভবন অভিযানের ডাক আশা কর্মীদের একাংশের। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে অভিযানে যোগ দিতে চাওয়া আশা কর্মীদের আটকানোর অভিযোগ। শিয়ালদা স্টেশনে আশা কর্মীদের আটকানোর অভিযোগ GRP-র বিরুদ্ধে। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে গতকালই ট্রেনের ভিতর আশা কর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ১৫ হাজার টাকা ন্যূনতম বেতন, সরকারি স্বাস্থ্যকর্মীর স্বীকৃতি, কর্তব্যরত অবস্থায় মারা যাওয়াদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া এবং বকেয়া সব ভাতা মিটিয়ে দিতে হবে বলে দাবি তুলে বেশ কয়েক দফা দাবিতে রাজ্য় জুড়ে কর্মবিরতি আশা  কর্মীদের। টানা ৩০ দিন ধরে রাজ্য় জুড়ে কর্মবিরতি পালন করছেন তাঁরা। অভিযানে অশান্তির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য ভবন চত্বরে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিচয়পত্র পরীক্ষা করে তবে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্যভবন চত্বরে। (ASHA Workers Protest)

Continues below advertisement

বুধবার সকালে শিয়ালদা স্টেশনের ১৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের বাইরে আটকে রয়েছেন আশা কর্মীরা। ৭ তারিখে বৈঠকে আজ  ডাকা হয়েছিল বলে দাবি তাঁদের। এবিপি আনন্দকে তাঁরা বলেন, "আমরা বুঝতে পারছই না কার অর্ডার। GRP কেন আটকায় আমাদের? GRP-র এটা অধিকার নেই। বাইরে কে আন্দোলন করছে, তা দেখার দায়িত্ব ওদের নয়। ওরা বলছে, অর্ডার আছে। আমাদের ডাকা হয়েছে ২১ তারিখে। তার পর এভাবে হয়রান করবে আশাতীত ছিল। স্বাস্থ্যভবনে যেতে না পারি যাতে, বাধা দেওয়া হচ্ছে। সরকার ভয় পেয়েছে। আমাদের কিছু দিতে পারবে না ওরা। উন্নয়নের পাঁচালি কানের মধ্যে দেবে। কেউ বিশ্বাস করবে না। আমাদের পরিবার আছে। যে হাজার হাজার লোককে পরিষেবা দিই, তাঁরাও আমাদের পক্ষে আছেন। আমরা সরকার উল্টে দেব, সরকার যদি আমাদের কথা না ভাবে।" (ASHA Worker Protests)

যদিও এই বিক্ষোভের নেপথ্য়ে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যেরপ মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যয় তাঁর কথায়, "এই আন্দোলনের নেপথ্যে রাজনৈতিক দল তো অবশ্যই আছে।" পাল্টা বিরোধীদের দাবি, সবসময় রাজনৈতিক তকমা লাগিয়ে দিতে হবে?

Continues below advertisement

স্বাস্থ্যভবনে আসার পথে সেক্টর ৫ থেকে একের পর এক আশা কর্মীকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযানের আগেই পুলিশ ধরপাকড়ে নেমেছে, নির্দিষ্ট পোশাকে আশাকর্মীদের দেখলেই আটক করা হচ্ছে বলে দাবি আশা কর্মীদের। পুলিশি ঘেরাটোপ এড়িয়ে ১০০-১৫০ আশাকর্মী সেখানে এসে পৌঁছন উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে। স্লোগান তুলছেন তাঁরা। রাজ্যে ৭৫-৮০ হাজার আশা কর্মী রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গে। নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে আন্দোলন ও কর্মবিরতি চালিয়ে আসছেন তাঁরা। আজ স্বাস্থ্য়সচিবের সঙ্গে কথা বলার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের। কিন্তু গতকাল রাত থেকেই ধরপাকড় শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ।

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান রুখতে রেল ও সড়ক, দুই পথেই পুলিশ তৎপর বলে জানা যাচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জ স্টেশন চত্বর থেকে আন্দোলনকারী আশাকর্মীরা আটক হন। বারাবনি থেকে বাস ভাড়া করে কলকাতায় আসার পথে বাস নিয়ে যাওয়া হয় থানায়। অন্ডাল স্টেশনের সামনেও আশাকর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ ও GRP. দুই পক্ষের মধ্য়ে বচসা বাঁধে সেখানে। 

বাঁকুড়া স্টেশনের বাইরেও আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পুরুলিয়া এক্সপ্রেস ধরার জন্য স্টেশনের সামনে পৌঁছতেই মহিলা পুলিশকর্মীরা আশা কর্মীদের ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ। বেশ কয়েকজন আশা কর্মীকে পাকড়াও করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও দাবি। স্বাস্থ্য ভবন অভিযান কর্মসূচিতে হেনস্থার অভিযোগ তুলে এদিন খাতড়ার পাম্প মোড়ে রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন আশা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গাড়ি ভাড়া করে কলকাতা আসতে চাইলেও, তাঁদের কোনও গাড়ি দেওয়া হয়নি। পুলিশ-প্রশাসনের ধমকিতেই কেউ গাড়ি দিতে চায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের।

পূর্ব মেদিনীপুরের ময়নায় বাইপাস মোড়ের কাছে আশা কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান। ময়নায় পুলিশ আশাকর্মীদের দু'টি বাস আটকে রাখে বলে অভিযোগ। প্রতিবাদে বাইপাসেই বিক্ষোভ আশা কর্মীদের। বাস থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়।

কলকাতা পৌঁছনোর জন্য আজ ভোরে বেলদা স্টেশনে ট্রেন ধরতে যান পশ্চিম মেদিনীপুরের আশা কর্মীরা। পৌনে ৬টা নাগাদ স্টেশন চত্বরের বাইরেই তাঁদের আটকে দেয় পুলিশ। শুরু হয় টানা হ্যাঁচড়া। তারপরেও বেশ কয়েকজন আশা কর্মী স্টেশনে ঢুকে পড়লে, পুলিশ তাঁদের আটক করে বলে অভিযোগ। একই ভাবে মেদিনীপুর স্টেশনের বাইরেও কলকাতামুখী আশাকর্মীদের আটকে দেয় পুলিশ। প্রতিবাদে রাঙামাটি ফ্লাইওভারের নীচে রেললাইনের ওপর শুয়ে পড়েন আশা কর্মীরা। জিআরপি গিয়ে তাঁদের তুলে দেয়।

পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া স্টেশনে আশা কর্মীদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে GRP-র বিরুদ্ধে। কলকাতায় আসতে চাওয়া আশাকর্মীদের অভিযোগ, ট্রেনের কামরায় উঠে তাঁদের পোশাক চিহ্নিত করে নামিয়ে দেয় পুলিশ। আর কোনও ট্রেনে তাঁদের উঠতে দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। মুর্শিদাবাদের আজিমগঞ্জ থেকে রওনা হয়েছিলেন বেশ কয়েকজন আশাকর্মী। কাটোয়া স্টেশনে নামার পর, হাওড়াগামী ট্রেন ধরার আগেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয় বলে অভিযোগ।

আশা কর্মীদের স্বাস্থ্য ভবন অভিযান ঘিরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের টানাপোড়েন চলছে গতকাল রাত থেকেই। কলকাতা পৌঁছনোর জন্য গতকাল রাতে মালদা টাউন স্টেশনে গৌড় এক্সপ্রেস ধরতে যান প্রায় ৫০ জন আশা কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও, মালদা GRP তাঁদের ট্রেনে উঠতে দেয়নি। তা নিয়ে বাগবিতণ্ডাও চলে। মালদা GRP সূত্রে দাবি, গৌড় এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরা পুরো ভর্তি হয়ে যাওয়ায়, আশা কর্মীদের উঠতে দেওয়া যায়নি। তাঁদের পরের ট্রেনে কলকাতা যেতে বলা হয়।

নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনেও আশা কর্মীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ভিডিও সামনে এনে আশাকর্মীদের অভিযোগ, পদাতিক এক্সপ্রেসে একেবারে কামরার ভিতরে ঢুকে তাঁদের কলকাতা আসতে বাধা দিয়েছে পুলিশ।