সোমক লাহিড়ি, মালদা: মালদার ইংরেজবাজারের বিধানপল্লীর এক সাধারণ বাড়ি থেকে উঠে এল এক অসাধারণ সাফল্যের খবর। এ বছর পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হলেন ৬৬ বছর বয়সী প্রাক্তন রেলকর্মী অশোক কুমার হালদার। রেলের গার্ড থেকে সাহিত্যের আঙিনায় তাঁর এই সফর যেমন রোমাঞ্চকর, তেমনই অনুপ্রেরণার। 

Continues below advertisement

অশোক বাবুর জন্ম মুর্শিদাবাদের লালগোলায়। তাঁর বাবা শীর্ষ চন্দ্র হালদারও ছিলেন রেলের কর্মী। স্ত্রী ইলা হালদার এবং দুই ছেলেকে নিয়ে তাঁর সুখের সংসার। বড় ছেলে অমিত গাজল ব্লকের অস্থায়ী কর্মী এবং ছোট ছেলে কিঙ্কর বর্তমানে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রেলের কাজের ব্যস্ততার মাঝেও পরিবারই ছিল তাঁর লেখার মূল চালিকাশক্তি।

লালগোলা এম এন একাডেমি থেকে স্কুলজীবন শেষ করে ১৯৮৫ সালে বহরমপুর কে এন কলেজ থেকে বিএসসি পাস করেন তিনি। তার পরের বছরই যোগ দেন পূর্ব রেলের মালদা ডিভিশনে মালগাড়ির গার্ড হিসেবে। বিহার, ঝাড়খণ্ড আর বাংলার পাহাড়-জঙ্গল ঘেরা নির্জন রেলপথে ডিউটি করার সময় থেকেই তাঁর মনে জন্ম নেয় সাহিত্যের বীজ। নির্জন কোচে বসে দেখা সেই প্রকৃতি আর জীবনবোধই তাঁকে কলম ধরতে বাধ্য করে।

Continues below advertisement

লেখালেখি শুরু করার পর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। আনন্দবাজার সহ পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরার বিভিন্ন নামী পত্রিকায় আড়াই হাজারের বেশি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় মোট ১৩টি বই লিখেছেন তিনি। যার মধ্যে ৮টি ইংরেজি ও ৫টি বাংলা। ২০১৭ সালে প্রকাশিত তাঁর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বই— 'The Radical Change of Human Society and With Scientific Observation' তাঁকে আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিতি এনে দেয়।

অশোক বাবুর মেধার কদর করেছিলেন খোদ প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তাঁর বই পড়ে মুগ্ধ হয়ে রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন তিনি। ২০১৯ সালের সেই সাক্ষাৎ অশোক বাবুকে আরও উৎসাহিত করে। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি তথা তৎকালীন রাজ্যপাল জগদীপ ধানখড়ের সঙ্গেও দেখা করেন তিনি।

এই সাফল্যের কারিগর হিসেবে নিজের স্ত্রীর কথা বারবার বলেন অশোক বাবু। গত বছরের ২৭শে জুলাই স্ত্রী ইলা হালদারই কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পদ্মশ্রী সম্মানের জন্য অশোক বাবুর নাম আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনেই সাড়া দিয়ে ভারত সরকার তাঁকে এই সর্বোচ্চ সম্মানে ভূষিত করেছে।

পেশায় রেলের গার্ড হলেও মননে তিনি একজন সাধক। তাঁর এই প্রাপ্তি মালদা জেলা তথা গোটা বাংলার গর্ব। কঠোর পরিশ্রম আর সাধনা থাকলে যে সাফল্যের শিখরে পৌঁছানো যায়, অশোক কুমার হালদার আজ তার জীবন্ত উদাহরণ।