কলকাতা : রাজ্যে আটকে থাকা রেল প্রকল্প, নতুন রেলপথ ও পরিকাঠামো উন্নয়ন—এই সব ইস্যু নিয়েই শুক্রবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রীর ( Ashwini Vaishnaw)  মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হল। সরকার বদলের পর এদিনই প্রথম পশ্চিমবঙ্গ সফরে এলেন রেলমন্ত্রী। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা একাধিক রেল প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে। পাশাপাশি নতুন রেল প্রকল্প, মেট্রো সম্প্রসারণ এবং স্টেশন আধুনিকীকরণ নিয়েও কথাবার্তা হয় । তারপরই সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গের জন্য একাধিক ঘোষণা করেন তিনি। 

Continues below advertisement

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, “রেলমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আগের সরকারের সঙ্গে কেন্দ্র সরকারের যুদ্ধ যুদ্ধ মনোভাব ছিল। আগের সরকার রেলের সঙ্গে কথা বলত না। রেলের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল রাজ্যের মানুষ।” মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এবার কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে বাংলায় রেল পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আসতে চলেছে। সেই কথারই অনুরণন শোনা যায় রেলমন্ত্রীর কথায়। চিংড়িঘাটা মেট্রো জট নিয়ে পূর্বের সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। 

বাংলায় রেলে ১ লক্ষ কোটিরও বেশি কাজের ঘোষণা

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে রেল সংক্রান্ত প্রায় ১ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার কাজ হবে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন, স্টেশন আধুনিকীকরণ, আন্ডারপাস, উড়ালপুল এবং মেট্রো প্রকল্প। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে তৈরি হবে ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন। নির্মাণ করা হবে ৫৩৮টি আন্ডারপাস ও উড়ালপুল। একাধিক রেল প্রকল্পের গতি বাড়ানো হবে। মেট্রো সম্প্রসারণ নিয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।  এদিন রেল মন্ত্রী বলেন, এ রাজ্যে  বুলেট ট্রেনের সংকল্প নিয়েছেন মোদিজি। এই ট্রেন  দিল্লি, লখনউ বারাণসী, পাটনা হয়ে শিলিগুড়িকে যুক্ত করবে। দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি ৬ ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন বুলেট ট্রেনে বসে। খুব দ্রুত কাজ করা হবে।

Continues below advertisement

আন্ডারপাস ও রেল প্রকল্পে জমি দেবে রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আন্ডারপাস তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই রেলকে ৪০টিরও বেশি NOC দিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, “BSF-র মতো রেলকেও জমি দেবে রাজ্য সরকার। যেখানে যেখানে প্রয়োজন, যেমন যা জমি লাগবে, রাজ্য রেলকে দেবে।” রাজ্যের দাবি, জমি সংক্রান্ত জট কাটলে বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোবে। বিশেষ করে রেল সুরক্ষা, যানজট কমানো এবং শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে আন্ডারপাস ও উড়ালপুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্প পরিদর্শনে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রী

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি নিজে রেলমন্ত্রীর সঙ্গে চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের কাজ দেখতে যাবেন। এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।  মেট্রো সম্প্রসারণ হলে কলকাতা ও শহরতলির যানজট অনেকটাই কমবে।

উত্তরবঙ্গ থেকে জঙ্গলমহল—সব জায়গাতেই জোর রেল উন্নয়নে

মুখ্যমন্ত্রী জানান, “রাজ্যে কাজ করছে ডবল ইঞ্জিন, আরও উন্নয়ন হবে।” তিনি আরও বলেন, “উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, জঙ্গলমহলে রেলের কাজ হবে।” প্রশাসনিক সূত্রের মতে, উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ শক্তিশালী করা, জঙ্গলমহলে নতুন সংযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষিণবঙ্গের শহরতলি রেল পরিষেবা উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হতে পারে।

কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের নতুন বার্তা?

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই বৈঠক শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দীর্ঘদিন পর কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বার্তা সামনে এল। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবেই বলেন, “রেলের কাজে কোনওদিন রাজ্যকে বঞ্চনা করেনি প্রধানমন্ত্রী।”  সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর বৈঠকে  মেট্রো সম্প্রসারণ, নতুন রেললাইন, স্টেশন রিডেভেলপমেন্ট, শহরতলির রেল পরিকাঠামো উন্নয়ন, রেল নিরাপত্তা প্রকল্প, সেতু ও আন্ডারপাস নির্মাণ বিষয়ে কথা হয়েছে। সব মিলিয়ে, নবান্নের এই বৈঠকের পর বাংলার রেল পরিকাঠামোয় বড় বিনিয়োগ ও দ্রুত কাজ এগোনোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল। আরও পড়ুন :Annapurna Yojna র ফর্মে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে কী কী তথ্য দিতে হবে? পরিবারের অন্যদের ব্যাঙ্ক ডিটেলসও দিতে হবে?