কলকাতা: রাজ্যসভা নির্বাচনে বিধানসভায় মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের ৫ প্রার্থী। মনোনয়ন দাখিল তৃণমূলের চার প্রার্থীর বিধানসভায় রাজীব কুমার, কোয়েল মল্লিক, মানেকা গুরুস্বামী, বাবুল সুপ্রিয়র মনোনয়ন দাখিল। আর এর পর এবিপি আনন্দের সাংবাদিকের 'প্লেয়িং ইলেভেনের' প্রসঙ্গ উঠতেই মেজাজ হারালেন বাবুল সুপ্রিয়। রাজ্যসভায় মনোনয়ন জমার পর প্রশ্ন করতেই মেজাজ হারালেন বাবুল। এমনকী ক্যামেরা থেকে ফুটেজ ডিলিট করতেও হুমকি দেন।  

Continues below advertisement

ঠিক কী ঘটেছে? 

এদিন বাবুল সুপ্রিয়কে এবিপি আনন্দের সাংবাদিক উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেছিলেন, 'আপনি বলেছিলেন টিম তৃণমূলে ঢুকবেন, সেটা কি ঢুকতে পারেননি?' এবিপি আনন্দের সাংবাদিকের প্রশ্ন শুনেই মেজাজ হারান তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী। 

Continues below advertisement

বাবুলের প্রশ্ন আসে, 'এই ধরনের প্রশ্ন কেন করছেন, এই প্রশ্নের মানে কী?' সাংবাদিকের পাল্টা প্রশ্ন থাকে, 'আপনার কি মনে হয় রাজ্যের মন্ত্রী থেকে রাজ্যসভায় যাওয়া টিম ইলেভেনে না থাকার কারণ?' এরপর চটে যান বাবুল সুপ্রিয়। বলেন, 'এই ধরনের অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করবেন না। এই প্রশ্নের কী মানে? আপনার কী মনে হয় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রীত্ব না হয়ে নিয়ে রাজ্যসভায় যাওয়াটা টিম ইলেভেনে না থাকার কারণ। তাই এই ধরনের প্রশ্ন একদম করবেন না। আমি কোনও উত্তর দেব না'। 

এরপর চলেও যান বাবুল। কিন্তু ফের রেগেমেগে সাংবাদিক ও চিত্রগ্রাহকের দিকে ধেয়ে আসেন। বাবুল বলতে থাকেন, 'আমার অনুমতি ছাড়া এটা চালাতে পারবেন না। আমাকে যে কোনও প্রশ্ন করার অধিকার আপনার নেই।' এমনকী ক্যামেরার ফুটেজও ডিলিট করতে বলা হয়। যদিও চিত্রগ্রাহক তা করতে অস্বীকার করাতে রীতিমতো তেড়ে আসেন তিনি। হুমকির সুরে বলেন, 'এটা আমার বক্তব্য। আমার পারমিশন লাগবে চালাতে হলে'। এরপরও চলতে থাকে বাগবিতণ্ডা। যদিও পরে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এসে পরিস্থিতি সামাল দেন।  

প্রসঙ্গত, ১৯ অক্টোবর ২০২১ সালে সাংবাদিক বৈঠকে বাবুল সুপ্রিয় বলেছিলেন, মাননীয় মমতা দিদি এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানাব আমাকে প্লেয়িং ইলেভেনে চান্স দেওয়ার জন্য। এটা অনেকটা আমি মোহনবাগানকে ভালবাসি। কিন্তু আমাকে প্লেয়িং ইলেভেনে সুযোগ না দিয়ে যদি জুনিয়র টিমে সুযোগ দেওয়া হয় তাহলে হয়তো আমি খেলব না। আমি প্রয়োজনে ছোট টিমে চলে যাব, কিংবা ইস্টবেঙ্গলে চলে যাব কিন্তু আমি প্লেয়িং ইলেভেনে থাকতে চাই'।