সমীরণ পাল , বাদুড়িয়া : বিধানসভা ভোটের পর থেকেই দলবদলের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বিজেপির হাইকমান্ড যতই বলুক না কেন, যে কেউ বিজেপির ঝান্ডা ধরলেই সে বিজেপি হয়ে যায় না। তবুও স্থানীয় স্তরে বহু প্রাক্তন তৃণমূলই এখন পদ্ম শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। এরই মধ্যে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে ১০ পঞ্চায়েত সদস্যের যোগদান নিয়ে রীতিমতো হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হল উত্তর চব্বিশ পরগণার বাদুড়িয়ায়। সেখানকার বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান-সহ মোট ১০ জন পঞ্চায়েত সদস্য সম্প্রতি যোগ দেন বিজেপিতে। কিন্তু এই যোগদানের বিরোধিতায় সরব হলেন ওই এলাকারই বিজেপির একাংশ। দুই গোষ্ঠীর মধ্যে শুরু হয় বিতর্ক, যা পরে হাতাহাতি ও উত্তেজনার চেহারা নেয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বাদুড়িয়া বিধানসভার অন্তর্গত বাজিতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট সদস্য সংখ্যা ১৬। তাঁদের মধ্যে উপপ্রধান-সহ ১০ জন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য ও সদস্যা দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন সহ-সভাপতি তথা স্থানীয় বিজেপি নেতা দীপক সরকারের হাত ধরে তাঁরা গেরুয়া শিবিরে নাম লেখান। কিন্তু ঠিক যোগদান অনুষ্ঠানের সময়ই সেখানে এসে পড়েন স্থানীয় ৫ নম্বর বিজেপি মণ্ডলের সভাপতি সৌমেন গাইন ও তাঁর অনুগামীরা।
সেই সময় বিজেপির দলীয় পতাকা হাতে নিয়ে যোগদানপর্ব সারছিলেন একদল স্থানীয় তৃণমূল সদস্য। দলবদলের এই কর্মসূচি চলাকালীনই সেখানে উপস্থিত হন স্থানীয় ৫ নম্বর বিজেপি মণ্ডলের সভাপতি সৌমেন গাইন-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মী। এই যোগদান নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি সৌমেন গাইন এবং বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুকল্যাণ বৈদ্যর অভিযোগ, দীপক সরকার আসলে তৃণমূলের লোক। বিজেপি নেতা পরিচয় দিয়ে তিনি এলাকার দুষ্কৃতীদের পদ্ম শিবিরে যোগদান করিয়েছেন। তাঁকে সরাসরি ‘তৃণমূলের হার্মাদ ’ বলে আক্রমণ শানান তিনি। তাঁদের বিরুদ্ধে যোগদান অনুষ্ঠানে হামলার অভিযোগ ওঠে । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু'পক্ষের মধ্যে বচসা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। ক্ষমতায় আসার পর ঘোষণা করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কিন্তু স্থানীয় স্তরে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে যখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব, ও প্রকাশ চিক বরাইক, তখনই এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিজেপিরই একাংশ। এখন সেই ক্ষোভ স্থানীয় দলবদল ঘিরেও।
