আবির দত্ত, অনির্বাণ বিশ্বাস ও জয়ন্ত পাল, কলকাতা: বাগুইআটিতে বাড়ির মধ্যে অসুস্থ যুবককে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল নিহতের দাদাকে। পুলিশের দাবি, অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ থেকে রেহাই পেতে ও সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদে ভাইকে খুন করেন অভিযুক্ত। পুলিশের চোখে ধুলো দিতে আলমারি ভেঙে লুঠের নাটক করা হয় বলে অভিযোগ।নিজের হাতে অসুস্থ ভাইকে খুন করে লুঠের নাটক করেছিলেন দাদা? পোষা কুকুরের সূত্র ধরে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এল পুলিশি তদন্তে। বাগুইআটিতে যুবককে খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল নিহতের দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে কুকথা, পদক্ষেপ নেওয়া হোক", কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে শান্তিপুর থানায় অভিযোগ BJP বিধায়কের

Continues below advertisement

বাগুইআটি খুনে নিহতের দাদাকে ধরিয়ে দিল পোষ্য

নিহত যুবকের বাবা বলেন, 'ও (ছোট ছেলে) অনেকদিন ধরে অসুস্থ, বহুদিনই, হিসেবে ১০-১২ বছর।  কপালে ছিল এটা। নাহলে ওরা এরকম করবে, আমি জানি না ঠিক। এখনও আমাকে কেউ বলেনি। আমাকে ফোন করল যে, বাড়ি এসো। বড় ছেলেই ফোন করেছিল।'রবিবার বাগুইআটির রঘুনাথপুর সরকার বাগানে বাড়ি থেকে যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। বলরাম রাজবংশী নামে ২৮ বছরের ওই যুবককে খুন করে লুঠপাট চালানো হয় বলে ওঠে। গোটা ঘর লন্ডভন্ড অবস্থায় পড়েছিল। বিছানার উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল গয়নার বাক্স। আলমারি ছিল ভাঙা অবস্থায়। প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বেশি গয়না লুঠ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু অপরিচিত ব্যক্তি ঘরে ঢুকে লুঠপাট চালালে, পোষ্য কুকুর কেন চিৎকার করল না? সেই থেকেই সন্দেহ দানা বাঁধে তদন্তকারীদের। এরপর নিহত বলরাম রাজবংশীর দাদা কৃষ্ণ রাজবংশীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। 

বয়ানে অসঙ্গতি,দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে খুনের কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত

পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর বয়ানে অসঙ্গতি মেলে। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে খুনের কথা স্বীকার করেন অভিযুক্ত। বাগুইআটির বাসিন্দা  বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, আমাদের এখানে এরকম প্রথমবার ঘটল। ভাবতেও পারিনি ওর দাদা ওকে এই ঘটনাটা ঘটাবে। আমরা সবাই শুনে অবাক হয়ে গেলাম যে ওর দাদা এরকম ঘটনা ঘটিয়েছে। কারও সাথে কথাবার্তা বলত না। ওরা নিজেদের মতোই থাকত সবসময়।পুলিশ সূত্রে খবর, অসুস্থ ভাইয়ের চিকিৎসার খরচ থেকে রেহাই পেতে ও সম্পত্তিজনিত কারণেই তাঁকে খুন করেন দাদা কৃষ্ণ রাজবংশী।