মুন্না আগরওয়াল, বালুরঘাট: মুর্শিদাবাদ-কাণ্ডের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ ঘিরে ধুন্ধুমার। বালুরঘাটে ব্যারিকেড ভেঙে এসডিও অফিস ঢোকার চেষ্টা সুকান্ত মজুমদারদের, এমনই অভিযোগ উঠেছে। ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করতেই, লাঠি পিটিয়ে আটকাল পুলিশ।
এদিকে বালুরঘাটে এসডিও অফিসের সামনেই অবস্থানে বসে বিজেপি। এরপরই বালুরঘাটে পুলিশকে কড়া হুঁশিয়ারি সুকান্ত মজুমদারের। সাফ জানিয়ে দেন, 'দঃ দিনাজপুরে কোনও গুন্ডামি, মস্তানি চলবে না। সীমান্ত যারা রক্ষা করছে, তাদেরই আক্রমণ করছে সরকার'।
বিজেপির দাবি, দুই পক্ষের খণ্ডযুদ্ধে, আহত হয়েছেন ৬ জন কর্মী-সমর্থক। ৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে বালুরঘাট সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আইসি পদমর্যাদার এক পুলিশও।
আহত বিজেপি কর্মীর বলেন, এই হচ্ছে মমতার পুলিশ, দুর্নীতিবাজের পুলিশ। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হচ্ছে আর সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করছে, আর বলছে এখানে কোনও বিজেপির মিছিল করা যাবে না। এই পুলিশ যখ হিন্দুপাড়ায় যখন হামলা হচ্ছে, তখন চুপচাপ থাকে, খাটের তলায় লুকিয়ে যায়।'
দক্ষিণ দিনাজপুরের এসপি চিন্ময় মিত্তল বলেন, ' আমাদের কাছে ভিডিওগ্রাফি আছে, আমি সেটা পরে দেখব। পাশাপাশি আমাদেরও দুতিনজন আহত। বালুরঘাট থানার আইসিও আহত। আমরা খতিয়ে দেখব।'
মুর্শিদাবাদ-কাণ্ডের প্রতিবাদে, শনিবার, বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের নেতৃত্বে, বালুরঘাটের মঙ্গলপুর মোড় থেকে শুরু করে জেলাশাসক দফতরের সামনে মিছিল করে আসে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা। সেখানেই ছিল প্রতিবাদ সভার আয়োজন। আগের থেকেই পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় মোড়া ছিল এলাকা। উপস্থিত ছিলেন খোদ ডিএসপি হেড কোয়ার্টার সহ বালুরঘাট থানার আইসিও। জেলাশাসক দফতরের সামনে বিজেপির মিছিল পৌঁছতেই বাঁশের ব্যারিকেড করে আটকায় পুলিশ। আর তারপরেই রীতিমতো রণক্ষেত্রের রূপ নেয় এলাকা। পুলিশের প্রতিরোধ পেতেই শুরু হয় দুই পক্ষের ধস্তাধস্তি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিচার্জও করে পুলিশ।
আক্রান্ত কর্মীদের দেখতে প্রতিবাদ সভা থেকেই সোজা বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে যান বিজেপি রাজ্য সভাপতি। এখনও পর্যন্ত, এই ঘটনায় কোনও গ্রেফতারি হয়নি।