সুকান্ত দাস, ব্রতদীপ ভট্টাচার্য, প্রকাশ সিনহা, কলকাতা: বাংলাদেশে চূড়ান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই ফিরলেন খালেদা জিয়ার ছেলে তারিক রহমান। আওয়ামী লিগবিহীন বাংলাদেশে BNP-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের প্রত্যাবর্তন কি অস্থির বাংলাদেশের ছবিটা বদলাতে পারবে? নাকি তারিকের সামনে আসবে নতুন কোনও চ্যালেঞ্জ? 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, 'আর কোনওদিন বাংলাদেশে শো করতে যাব না', সফর বাতিল করলেন রাশিদপুত্র আরমান খান, ছেলের সিদ্ধান্তে 'গর্বিত' মা

Continues below advertisement

BNP ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান  তারেক রহমান বলেন,আপনারা যদি আমাদের সহযোগিতা করেন, আমরা 'I HAVE A PLAN' বাস্তব করতে সক্ষম হব। এ যেন, এলেন, দেখলেন, আর জয় করলেন। শোনালেন দেশবাসীর জন্য তাঁর পরিকল্পনার কথাও। স্ত্রী-কন্যাকে নিয়ে ব্রিটেনে কাটিয়েছেন ১৭ বছরের স্বেচ্ছানির্বাসন। চূড়ান্ত রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ফিরলেন খালেদা-পুত্র ও BNP-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারিক রহমান।আর এরই সঙ্গে হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে শুরু হয়ে গেল নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট। একইসঙ্গে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে, তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন কি অস্থির বাংলাদেশের ছবিটা বদলাতে পারবে?নির্ধারিত সময়েই কি হবে সাধারণ নির্বাচন? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ   রাজাগোপাল ধর চক্রবর্তী বলেন, এতকাল হয়তো অনেকে ভাছিলেন খালেদা অসুস্থ। বিএনপি হয়তো সেই প্রতিযোগীতায় এগোতে পারবে না। তারেকও মাঝে মাঝে জানাচ্ছিল, বাংলাদেশ নিয়ে উৎসাহী নয়। যখন উনি এসে হাজির হয়েছেন, কর্মীদের মধ্যে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, এই জায়গায়. দাঁড়িয়ে মনে হয় না যে, ইউনূস চাইবেন ভোট ভন্ডুল করতে। সেটা করতে গেলে বিপদে পড়বেন। শুধু ইউনূস নয়, মৌলবাদীরাও বুঝতে পারবেন মানুষ নির্বাচন চাইছে। 

 ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনে জিতে বাংলাদেশে ক্ষমতায় এসেছিল খালেদা জিয়ার দল BNP। প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন খালেদা জিয়া। সেই সময় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেকের নেতৃত্বে একটি সমান্তরাল ক্ষমতাবলয় তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন অনেকেই। এমনকী, বিএনপির ঢাকা বনানীর অফিস থেকে তারেক দলের কাজ পরিচালনা করতেন বলেও সামনে আসে খবর। সেই সময়েই তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচার করার অভিযোগ ওঠে। ২০০৮ সালে বাংলাদেশে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করে শেখ হাসিনার সরকার।তবে গত বছর অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সব মামলা থেকে মুক্ত করা হয় তারেক রহমানকে।এরপরই নানান মহলে তারেক রহমানের বাংলাদেশে ফেরা নিয়ে কানাঘুসো শোনা যায়।আওয়ামী লিগের অধ্য়ায় শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর অবশেষে বাংলাদেশে ফিরে এলেন তারেক।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ  সম্পূর্ণা গোস্বামী বলেন, তারেক আসা মানে বাংলাদেশে বিএনপির উপস্থিতি বোঝা যাবে, এতদিন বিএনবি বাংলাদেশে ছিল না, বাংলাদেশে এত অশান্তির মধ্যেও বিএবপিকে সেভাবে দেখা যায়নি, ফেব্রুয়ারির ভোটে ওকে প্রার্থী হিসেবে দেখা যাবে।বাংলাদেশের সংবাদপত্র প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশে সত্যিকারের কিছু রাজনৈতিক শূন্যতা আছে। তারেক রহমানের ফিরে আসায় তা পূরণ হবে। BNP ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান  তারেক রহমান বলেন,   আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যে কোনও মূল্যে আমরা আমাদের এই দেশের শান্তি, শৃঙ্খলাকে ধরে রাখতে হবে। যেকোনও মূল্যে যে কোনও বিশৃঙ্খলাকে পরিত্যাগ করতে হবে। যে কোনও মূল্যে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে যাতে মানুষ নিরাপদ থাকতে পারে।  বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনের আর ২ মাসও বাকি নেই।এদিকে ইতিমধ্যেই সেখানে নিষিদ্ধ হয়েছে শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লিগ।এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পুরনো রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে একমাত্র বিএনপি-ই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছে। কর্নেল পৃথ্বীরঞ্জন দাস বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে, হাসিনার থেকে বেশি কট্টরপন্থী BNP। কিন্তু সেখানকার মানুষের কাছে আর কোনও বিকল্প নেই, তাদের এই পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে।  মা খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। এই পরিস্থিতিতে তারেক রহমান-ই যে বাংলাদেশে রাজনীতির ভরকেন্দ্রে আসতে চলেছেন, তা বলাই বাহুল্য।