Bangladesh News: বিগত কয়েকদিন ধরেই অশান্ত বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত। ছায়ানট, উদীচী ভাঙচুর, দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস মৃত্যু, সংবাদপত্রের অফিসে হামলা - বাদ যায়নি কিছুই। প্রতিবেশী দেশের এ হেন পরিস্থিতিতে ক্ষুব্ধ প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী উস্তাদ রশিদ খানের পুত্র আরমান খান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বাংলাদেশে আর যাবেন না। বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে যথেষ্টই ক্ষুব্ধ তিনি।       

Continues below advertisement

আরমান বলছেন, 'শেষ কয়েকদিন ধরেই বাংলাদেশের খবর শুনছি। সোশ্যাল মিডিয়ায় অত প্রচার যখন হয়নি, তার আগে থেকেই শুনছি আমি। ওখানে হিন্দুদের জ্বালিয়ে মারা হচ্ছে। গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ওরা মানুষের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি ওখানে যাওয়ার আর অবস্থা নেই। লোকের আর আগের মতো সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ নেই। নাহলে এত সুন্দর সুন্দর ছবি, বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করত না। আমাদের মিউজিশিয়ানদের জন্য এটা খুব কষ্টের, দুঃখের, রাগের। একটা তার ছিঁড়ে গেলেও কষ্ট হয়। আমার ক্ষমতা থাকলে, যারা এসব করেছে, তার প্রতিশোধ নিতাম। ভিতরে একটা রাগ রয়ে গিয়েছে। আমরা মা সরস্বতীর পুজো করার সময়, তাঁর পায়ের কাছে নিজেদের বাদ্যযন্ত্র রেখে দিই। অথচ সেইসব বাদ্যযন্ত্র এত নির্মম ভাবে ভেঙে ফেলছে। এটা কোনওমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। ওরা যা করছে, হিন্দুদের যেভাবে মারা হচ্ছে, বাদ্যযন্ত্র যেভাবে ভাঙা হচ্ছে, যারা এগুলো করছে তাদের এক একজনের মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত। যা করছে তা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমি এটা একদমই বলব না যে, বাংলাদেশ থেকে এটা প্রাপ্য নয়। বাংলাদেশ থেকে এটাই প্রাপ্য। ওরা কোনও ব্যাপারে কিছু ভাবনাচিন্তাই করছে না। ওদের একটাই ব্যাপার, যেহেতু বেশি সংখ্যক মানুষ মুসলমান, তাই সংখ্যালঘুদের উপর ওরা এই অত্যাচারটা করবেই। এটাই স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছে। জানি না ওদের সরকার কে, কী করছে, কাদের সমর্থন করছে, নাকি এদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে, তবে ওরা এই ব্যাপারে কিছু করবে বলে আমার মনে হয় না। আমি বাংলাদেশকে ব্ল্যাকলিস্ট করে দিয়েছি। আর কোনওদিন যাব না, সে আমায় যতই টাকা দিক, যাই করুক। আমার কোনও ইচ্ছে নেই।'      

ছেলের সিদ্ধান্তে গর্বিত তাঁর মা সোমা খান। তিনি বলছেন, 'এটা সম্পূর্ণ ওর সিদ্ধান্ত। আমি গর্বিত যে আমার সন্তানদের এটা শেখাতে পেরেছি যে মনুষ্যত্ব ধর্মের আগে আসে। এটাই আমার গর্ব।' 

Continues below advertisement