কলকাতা: ১৫ অগাস্ট নয়, ১ এপ্রিল থেকেই কার্যকর 'যুব সাথী' প্রকল্প। এবার ঘোষণা করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জানালেন, 'যুব সাথী' প্রকল্পের জন্য ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ক্যাম্প বসবে। প্রকল্পের জন্য বিজ্ঞাপনও দেবে রাজ্য সরকার। এক্ষেত্রে স্কলারশিপ বাধা হবে না। স্কলারশিপ ছাড়া অন্য কোনও প্রকল্পে যুক্ত না থাকলেই মিলবে ভাতা। (Yuva Sathi 2026)

Continues below advertisement

মঙ্গসবার নবান্ন থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে এই ঘোষণা করলেন মমতা। তিনি বলেন, "তিন-চারটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলাম আমরা। কিন্তু কবে থেকে পাবেন, তা জানাতেই আজকের এই ঘোষণা। বিশেষ করে যুব সাথী প্রকল্প। মাধ্যমিক পাশ করেছেন যাঁরা, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সিদের জন্য। ঐক্যশ্রী হোক বা মেধাশ্রী, স্মার্ট কার্ড হোক বা শিক্ষাশ্রী, স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট কাম মিনস স্কলারশিপ হোক, এসব পেলে কোনও প্রভাব পড়বে না। কিন্তু অন্য কোনও প্রকল্পে না থাকলে, আগামী পাঁচ বছর, চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ১৫০০ টাকা করে পাবেন  তাঁরা। পরে আবার রিভিউ করে দেখা হবে। আমরা বলেছিলাম ১৫ অগাস্ট থেকে করব। কিন্তু ১ এপ্রিল থেকে যেহেতু নতুন অর্থবর্ষ শুরু হয়, তাই ঠিক করেছি ১ এপ্রিল থেকে।" (Mamata Banerjee)

 এদিন মমতা জানান, ১ এপ্রিল থেকে প্রকল্প কার্যকর হলেও, আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ আছে। তাই ঠিক হয়েছে, কাগজে বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। প্রত্যেক বিধানসভা কেন্দ্রে ২৯৪টি ক্যাম্প গড়ে তোলা হবে। দুয়ারে সরকারের মতোই কাজ করবে ওই ক্যাম্পগুলি। ক্য়াম্পগুলিতে মোট তিনটি বিভাগ থাকবে, ১) ইয়ুথ অ্যান্ডস্পোর্টস, যুবসাথীদের জন্য, ২) ক্ষেত মজুর, ভূমিহীন চাষিদের জন্য, বছরে ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে। ৩) মাইনর ইরিগেশন অ্যান্ড পাওয়ার, যাঁরা ১৫০০ বা সর্বোচ্চ ২০০০ টাকা দেন, সেটা তুলে নিয়ে ফ্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

Continues below advertisement

মমতা বলেন, "মারা গেলে ২ লক্ষ করে টাকা দিই আমরা কৃষকবন্ধুদের। শস্যবিমা দিই বছরে ১০ হাজার টাকা করে, যাঁদের ১ একরের বেশি জমি আছে। এ কাঠা জমি থাকলেও ৪০০০ টাকা করে পান। এবার ক্ষেতমজুর, অর্থাৎ ভূমিহীন চাষিদের বছরে দু'বার ২০০০ টাকা করে দেওয়া হবে।"

ইরিগেশন অ্যান্ড পাওয়ার নিয়ে মমতার বক্তব্য, "ইরিগেশন বা শ্যালো টিউবওয়েলের জন্য যেটা দিতেন ওঁরা, সেটা তুলে নেওয়া হচ্ছে। প্রাইভেটে যাঁরা করেন, তাঁদের নিয়ে বলছি না। তাঁরা স্বাধীন ভাবে করেন। যাঁরা আমাদের কাছে দরখাস্ত করবেন ২০০০ টাকার মধ্যে, তাঁদের কথা বলা হচ্ছে। এই টাকাটা পাওয়ার ডিপার্টমেন্ট নিত জল তোলার জন্য। আর টাকা নেওয়া হবে না।" ছুটির দিন বাদ দিয়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাম্প চলবে বলে জানালেন মমতা। সঙ্গে সঙ্গে হাতে রিসিট দেওয়া হবে এবং ডিজিটাইজও করা হবে।