কলকাতা: ব্যাঙ্ক প্রতারণা মামলায় ভোর থেকে তল্লাশি অভিযানে নেমে পড়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। এদিন কলকাতা, আসানসোল মিলিয়ে ৪ জায়গায় চলছে তল্লাশি । কোহিনুর গ্রুপ নামে একটি সংস্থার বিরুদ্ধে কয়েকশো কোটি টাকার ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগ প্রকাশ্যে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন, পূর্ব বর্ধমানে বুদবুদে তরুণীর শ্লীলতাহানি, মেরে ওই তরুণীর বাবার মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
ব্যাঙ্ক থেকে কয়েকশো কোটি টাকা ঋণ নিয়ে বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে অর্থ অন্য জায়গায় পাঠানোর অভিযোগ। সেই মামলায় একাধিক চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়িতে তল্লাশি চলছে। উত্তরপাড়া, হাওড়া, লেকটাউন, আসানসোলে একযোগে অভিযান ED-র। হাওড়ার শিবপুরে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট শচীন জৈনের বাড়িতে চলছে অভিযান। লেকটাউনে চাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট অশোক সারোগির বাড়িতেও চলছে তল্লাশি।
পুজোর আগেই শহরে অভিযান চালিয়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। শরৎ বোস রোড-সহ কলকাতার ৮ টি জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। মোটা টাকা রিটার্নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে হয়েছিল অভিযান। চিটফান্ডের মাধ্যমে টাকা তুলে, সেই টাকা নির্মাণ সংস্থা-সহ অন্য ব্য়বসায় ঢালা হয়েছিল। সূত্রের খবর, গত সেপ্টেম্বরে ওই মামলাতেই ১৭ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তাকারী সংস্থা । কলকাতা ও ইনদউর মিলিয়ে ১৭টি জায়গায় অভিযান চালিয়েছিল ইডি. নারকেলডাঙা, নেতাজিনগর, সাদার্ন অ্যাভিনিউ, বেলেঘাটার ৬ ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সির আধিকারিকরা।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সূত্রে দাবি করা হয়েছিল,অমৃত গ্রুপ অফ কোম্পানিজ নামে একটি সংস্থাই এই প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছিল। চিটফান্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা তোলা হয়েছিল। মোটা টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পরে সেই টাকা বিভিন্ন রিয়েল এস্টেট, নির্মাণ সংস্থা সহ অন্যান্য ব্য়বসায় প্রয়োগ করা হয়। মামলার তদন্তে উঠে এসেছিল কলকাতার একাধিক সংস্থা ও ব্যবসায়ীর নাম। এবং ওই তথ্যের ভিত্তিতে অমৃত গ্রুপের একাধিক কর্তার বাড়ি, অফিসে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট।
সম্প্রতি কলকাতা, দিল্লি-সহ ৭ জায়গায় তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি। পার্ক সার্কাসের ১২নং দরগা রোডে নাদিমুলের খবরের কাগজের অফিসে তল্লাশি চালিয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের বোন, ভগ্নিপতির বাড়িতেও হানা দিয়েছিল ইডি। কিন্তু কেন ইডির স্ক্যানারে তৃণমূলের রাজ্য়সভার সাংসদ নাদিমুল হক? জানা গেছে, অগাস্টে কালীঘাট-তৃণমূলের নেতার বিরুদ্ধে বিধাননগর উত্তর থানায় আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছিল।সেই অভিযোগেরই সূত্র ধরে রাজ্য়সভার সাংসদ নাদিমুল হকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছিল ইডি।
