তুহিন অধিকারী, বাঁকুড়া: প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই গতকাল সন্ধেয় বাঁকুড়ার বাজ পড়ে জোড়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটল। ইন্দাসের পলাশি গ্রামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে রাজু বাগদীর। বাজ পড়ে মৃত্যু হয়েছে পাত্রসায়রের পাটিত গ্রামের জয়ন্ত মণ্ডলেরও। দু’জনেই মাঠে চাষের কাজ করছিলেন। এর আগে ২৪ জুলাই একই দিনে বাঁকুড়ায় বাজ পড়ে ৯ জনের মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে এই জোড়া মৃত্যুতে গত ১৫ দিনে বাঁকুড়া জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১১ জন।
চলতি বছর বর্ষার শুরু থেকেই একের পর এক নিম্নচাপের জেরে লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছে বাঁকুড়া জেলায়। নজিরবিহীন ভাবে মাঝেমধ্যেই বজ্রগর্ভ মেঘের কারণে বজ্রপাতের ঘটনাও ঘটছে। গত ২৪ জুলাই একইদিনে বাঁকুড়ায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয় ৯ জনের। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই গতকাল সন্ধেয় বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ফের বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়। শুরু হয় বৃষ্টিও। আর সেই বৃষ্টির সময় দুটি পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার পলাশী গ্রামে মৃত্যু হয় রাজু বাগদী (৪৫) ও পাত্রসায়ের থানার পাটিত গ্রামের জয়ন্ত মণ্ডল (৬৩) নামের এক ব্যক্তির। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে দুজনেই মাঠে আমনের চারা রোপণের কাজ করছিলেন। বজ্রপাতে দুজনেই মাঠের মধ্যে লুটিয়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। পুলিশ মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আজ বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
গত ২৪ জুলাই কয়েক ঘণ্টার মধ্য়ে ৫ জেলায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়। পূর্ব বর্ধমানে ৫, পশ্চিম মেদিনীপুরে ২, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে এক জন করে। তবে এখন বাজ পড়া যেভাবে বেড়েছে, তা অনেকেরই চোখে পড়েছে। প্রশ্নটা হল, শুধুই কি প্রাকৃতিক কারণ, নাকি হাত আছে মানুষেরও? বিশেষজ্ঞদের মতে, বাতাসে দূষণ বাড়ার জন্য মেঘের মধ্যে ধূলিকণা বেড়ে চাপ ও তাপের তারতম্য হচ্ছে। ফলে, বজ্রগর্ভ মেঘ বা থান্ডার ক্লাউড তৈরি হচ্ছে বেশি। উঁচু বাড়ির জন্য বায়ুপ্রবাহের ধরন বদলেছে, সেটাও বজ্রপাতের কারণ। কংক্রিটের বাড়িঘর, পিচের রাস্তার জন্য তাপ বাড়ছে। এতেও পরিবর্তন ঘটছে বায়ুপ্রবাহে। যার ফলে, বজ্রপাতের পরিমাণও বাড়ছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা সোমনাথ দত্ত বলেন, "গ্লোবাল ওয়ার্মিং। যে কোনও ওয়েদার এক্সট্রিম হয়ে যাচ্ছে। তার ফলে এই ঘটনা বাড়ছে।'' বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রগর্ভ মেঘের নীচের দিকে নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেশি থাকে। আর ওপরের দিকে থাকে পজিটিভ চার্জ। বজ্রপাত তখনই হয় যখন মেঘের মধ্যে নেগেটিভ চার্জের পরিমাণ বেড়ে যায়। উল্টো দিকে মাটিতে পজিটিভ চার্জ জমা হয়। বজ্রগর্ভ মেঘ ও মাটিতে তৈরি হওয়া দুই বিপরীতধর্মী চার্জের পরিমাণ বাড়লে মাঝের বাতাসের বাধা অতিক্রম করে একটি লাইন তৈরি হয়, যাকে বলে স্টেপড লিডার। মেঘে যে শক্তিশালী ক্ষেত্র তৈরি হয় তার প্রতি ইঞ্চিতে প্রায় ১০ হাজার ভোল্ট বিদ্যুৎ থাকে। ফলে চারপাশের বাতাসও আয়নিত হয়ে যায়। ফলে এই পথেই মেঘ থেকে বিদ্যুৎ শক্তি মাটিতে নেমে আসে। যাকে বলা হয় বজ্রপাত।