বাচ্চু দাস , শিলিগুড়ি: মুম্বইয়ের বাসিন্দা হলেও বাংলার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিলেন বাপি লাহিড়ি। জলপাইগুড়িতে জন্ম। শিলিগুড়ির কলেজ পাড়ায় বাপি লাহিড়ির মাসির বাড়ি। সঙ্গীতশিল্পীর মৃত্যুতে সেই বাড়িতে আজ শোকের ছায়া। স্মৃতিতে ডুব দিলেন বাপি লাহিড়ির ভাইপো ও তাঁর স্ত্রীয়েরা।
২ বছর বয়স থেকে এই বাড়িতে যাতায়াত। ২০১৭-য় শেষবার এসেছিলেন মাসতুতো দাদার নাতির পৈতের অনুষ্ঠানে। সেবার বেশ কয়েকদিন শিলিগুড়িতে ছিলেন বাপি। কাজে বা ঘুরতে উত্তরবঙ্গে এলে হোটেলে নয়, থাকতেন মাসির বাড়িতেই। সে কটা দিন পরিবারের সঙ্গে গান, গল্প, আড্ডায় কেটে যেত। নানারকম মাছের ভক্ত ছিলেন বাপি। মুম্বইয়ে যে হরেক রকম মাছ পাওয়া যায় না, তা নিয়ে দুঃখও করতেন। সেই সব দিনের কথা বলতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মাসতুতো দাদা ভবতোষ চৌধুরী। খুড়শ্বশুরের সঙ্গে গান গাওয়ার স্মৃতি ভাগ করে নিলেন দুই পুত্রবধূ সুপর্ণা ও কবিতা চৌধুরী। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর শোকবার্তায় লেখেন ' উত্তরবঙ্গের সন্তান আমাদের বাপি লাহিড়ি অসামান্য প্রতিভা ও কঠোর পরিশ্রমে সর্বভারতীয় খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। তাঁর সাঙ্গীতিক অবদানের মাধ্যমে আমাদের গর্বিত করেছেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অবিস্মরণীয় সুরের জাদুতে শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রেখেছেন। হিন্দি,বাংলা ছাড়াও তিনি তেলুগু, তামিল, কন্নড়-সহ বিভিন্ন ভাষার চলচ্চিত্রের গানে সুরারোপ করেছিলেন।'
রবীন্দ্র সদনে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পাশাপাশি বাপি লাহিড়িকেও রাজ্য সরকারের তরফে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন। একতারা মুক্তমঞ্চে বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাখা থাকবে বাপি লাহিড়ির ছবি। ভারতীয় সঙ্গীত জগতের ডিস্কো কিং-কে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন অনুরাগীরা।