বরানগর : 'মিলে-মিশে উন্নয়ন করব। উন্নয়ন সবার, দল যার যার।' সাংসদ-কাউন্সিলরদের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্তব্য করলেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। বৈঠকে যোগ দেন তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়ও।
বৈঠক শেষে সজল বলেন, "উন্নয়নটা সবার। পার্টি যার যার। ওখানে কোনও কম্প্রোমাইজ নেই। মিলে-মিশে উন্নয়ন করব। মিলে-মিশে পার্টি থোড়ি করব। বরানগরের পাহাড়-প্রমাণ সমস্যা। জল নেই, রাস্তা নেই, কন্ট্রাক্টর পালিয়ে গেছেন। নতুন সরকার। স্বাভাবিকভাবে প্রচুর নয়ছয়ের কারণে তারা কিছু কিছু জায়গায় এমবার্গো দিয়েছে পেমেন্টের ক্ষেত্রে। অনেক সমস্যা আছে।"
সাংসদ সৌগত রায় বলেন, "ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কোথায় কোথায় আটকাচ্ছে, কী কী সমস্যা হচ্ছে...নির্দিষ্টভাবে উনি জোর দিচ্ছেন... বর্ষা আসছে তার আগে জল জমার সমস্য়াটা আর্জেন্টলি...করতে হবে। আর অনেক ক'টা জায়গায় রাস্তার কাজ শুরু হয়ে হাফ-ডান হয়ে পড়ে আছে। সেটা মেটাতে হবে। কাজ মানুষের...এটা কোয়েশ্চন অফ রাইজিং অ্যাসপিরেশন। লোকের প্রত্যাশা বাড়ছে। লোক অসুবিধা হলে অভিযোগ করেন।" সাংবাদিকদের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, নতুন বিধায়ক কেমন কাজ করছেন ? কী মনে হল ? প্রথম বৈঠকে তো আপনি ছিলেন...। উত্তরে তৃণমূল সাংসদ বলেন, "এই মিটিংটা ভালই করেছেন।"
রাজ্যজুড়ে এবার বিশাল গেরুয়া ঝড়ে উড়ে গেছে ঘাসফুল। ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটিয়ে রাজ্যে সরকার গড়েছে বিজেপি। বিজেপি সরকারে আসার পর থেকেই তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলি একে একে পূরণ করার দিকে নজর দিয়েছে। সেইমতো চলছে কাজ। সেইমতোই নিজের এলাকার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন সজল। এবার তৃণমূল প্রার্থী অভিনেত্রী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে হারিয়ে বিজেপির বিধায়ক হয়েছেন তিনি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমেই সজল ঘোষের পরিচিতি ও উত্থান। সম্প্রতি তাঁকে আশ্বাস দিতে শোনা যায়, এবছরেই কলেজগুলিতে হবে ছাত্র ভোট। প্রসঙ্গত, ৯ বছর ধরে, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলিতে থমকে রয়েছে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ! আর এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। তৈরি হয়েছে নতুন সরকার। এবার কি কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ফিরতে চলেছে ? আশার কথা শুনিয়েছেন বরানগরের বিজেপি বিধায়ক। সজল ঘোষ বলেছেন, "নির্বাচন তো আমার Right। UGC দেয় এই অধিকার। এই Right কাড়ার অধিকার এদের নেই। কোনও সরকারের নেই।" ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে রাজ্যে শেষবার ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছিল। ব্যতিক্রম শুধু যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়। তাও সে ৬-৭ বছর আগেকার কথা ! অথচ সাধারণ পড়ুয়া থেকে আদালত, ছাত্র ভোটের সওয়াল ঘুরে ফিরে এসেছে সব স্তর থেকেই।
