কলকাতা : বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের ঘটনাকে ঘিরে উত্তাল গোটা বাংলা। রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। শুধু ধর্ষণ-খুনের সঙ্গে জড়িতদের সাজা নয়, যারা গণপিটুনি, পুলিশকে মারধর এবং রেললাইন অবরোধ ও অশান্তিতে জড়িত তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই তিনটি ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। এবার অ্যাকশন মুডে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ২০ জনকে।
নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। গণপিটুনিতে মৃত্য়ু হয় ইন্দ্র মণ্ডল নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের। এরপর মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুরে পুলিশের ওপর হামলা, গণপিটুনি, ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ২০ জনকে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ''গণপিটুনি করে যে নিরীহ লোকটাকে, ছেলেটাকে মেরে দিয়েছে, অবিবাহিত এক যুবক, সেখানেও যারা হত্য়াকারী, তাদেরকেও যথাযথভাবে, মার্ডার কেসে যুক্ত করা হবে। এবং, পুলিশকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া আছে, যারা যারা হুলিগানিজম করেছে পুরো দিন ধরে, তাদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে।'' আরও পড়ুন - গোপনাঙ্গে আঘাত, মাথায় ক্ষত ! জীবিত অবস্থাতেই ফেলা হয় জলে, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ভয়াবহ নৃশংসতা
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আরও জানিয়েছিলেন, ''গণপিটুনিতে যাঁকে পিটিয়ে মারা হয়েছে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, উনিও নিরীহ। তিনিও বিচার পাবেন।'' ''আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন। প্রথম মামলার বিচার দেবই। ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট দেব।'' ''আর বাকি ৩টি বিষয়ে যারা যুক্ত, যারা অতৃপ্ত আত্মা, ভোটে হেরে যারা ঘরে ঢুকে গেছিলেন, এখনও ঢুকে আছেন। এই ৩ কাণ্ড যারা করেছে তাদেরকেও ভুগতে হবে। এমন শাস্তি দেব বুঝতে পারবে।'' এবার এই কথা অনুযায়ী কাজ। একের পর এক গ্রেফতার। আর কারা জড়িত রয়েছে তাদেরও খোঁজ নিচ্ছে পুলিশ। আরও পড়ুন - কীভাবে ঘটানো হয়েছিল গোটা অপরাধ ? বারুইপুরকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য পুলিশের হাতে
