হিন্দোল দে, পার্থপ্রতিম ঘোষ , কলকাতা : বারুইপুরকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড় ! নাবালিকাকে অকথ্য যৌন নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় আগেই গ্রেফতার করা হল আনন্দ সর্দার, দিবাকর সর্দার ও প্রভাস মণ্ডলকে।  তার মধ্যে এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হয়েছে প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে খবর, এই প্রভাসই প্রথম অকথ্য নির্যাতন করে নাবালিকাকে বস্তাবন্দি করে জলে ফেলে দেওয়ার স্বীকার করে । এই প্রভাসকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ঘটনার পুনর্নিমাণের উদ্দেশে যায় মঙ্গলবার।   

Continues below advertisement

এনকাউন্টারে মৃত্য়ু হয় বারুইপুরে নাবালিকার যৌন নির্যাতন-খুনে অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের। পুলিশ সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার রাত ১২টা ৪৫ নাগাদ অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করতে গিয়েছিল বারুইপুর থানা। অভিযোগ, সেই সময় সে বারবার অস্বীকার করছিল তার অপরাধে যুক্ত থাকার কথা। এরপর পুলিশের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত। সূত্রের দাবি, পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে প্রভাস মণ্ডল। পাল্টা গুলিতে জখম হয় অভিযুক্ত। বারুইপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করে।  অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে তখনই পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।  

পুলিশ সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার গভীর রাতে, পুনর্নির্মাণের জন্য প্রভাস মণ্ডলকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তদন্তকারী আধিকারিক-সহ ৯-১০ জন পুলিশ কর্মী। অভিযোগ, আচমকা এক পুলিশ কর্মীর থেকে সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নেয় প্রভাস মণ্ডল। পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলিও ছোড়ে সে। পুলিশ সূত্রে দাবি, তাঁদের দিকে বন্দুক তাক করে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। এরপরই আত্মরক্ষা করতে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ। সূত্রের খবর, দু রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। প্রভাস মণ্ডলের বুকের নীচের দিকে এবং পেটে গুলি লাগে।

Continues below advertisement

বারুইপুরের ঘটনার তদন্তে সামনে এসেছে স্থানীয় একটি দোকানের CCTV ফুটেজ। যেখানে কয়েক মিনিটের মধ্য়ে, একাধিকবার যাতায়াত করতে দেখা যায় ধৃত প্রভাস মণ্ডলকে। প্রথম ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, এক ব্য়ক্তির সঙ্গে জয়নগরের দিক থেকে বারুইপুরের দিকে যাচ্ছে ধৃত অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। ১ মিনিট পর, রাস্তার উল্টো ফুট ধরে, ১২ বছরের নাবালিকাকে ফলো করে, বারুইপুরের দিক থেকে জয়নগরের দিকে যাচ্ছে অভিযুক্ত প্রভাস। পরমুহূর্তেই প্রভাস মণ্ডল নাবালিকার সঙ্গেই হেঁটে ফিরতে দেখা যায় তাকে।  এর পাশাপাশি গণপিটুনি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে ২০ জনকে।