কলকাতা: বারুইপুরকাণ্ডে আরও ১২ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল এই ১২ জনকে। গতকালই এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ১৮ জনকে। এ নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও গণপিটুনির ঘটনায় গ্রেফতারি বেড়ে হল ৩০।
আরও পড়ুন, টানা বৃষ্টিতে জাতীয় সড়কে ধস, এই অংশে যান চলাচল ব্যাহত
নাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বারুইপুর। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। গণপিটুনিতে মৃত্য়ু হয় ইন্দ্র মণ্ডল নামে বছর পঁয়ত্রিশের এক যুবকের।এরপর মঙ্গলবার বারুইপুরে গিয়ে এই ঘটনায় কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, আর গণপিটুনি করে যে নিরীহ লোকটাকে, ছেলেটাকে মেরে দিয়েছে, অবিবাহিত এক যুবক, সেখানেও যারা হত্য়াকারী, তাদেরকেও যথাযথভাবে, মার্ডার কেসে যুক্ত করা হবে। এবং, পুলিশকে সরাসরি নির্দেশ দেওয়া আছে, যারা যারা হুলিগানিজম করেছে পুরো দিন ধরে, তাদের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা হবে। '
এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বারুইপুরে পুলিশের ওপর হামলা, গণপিটুনি ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ঘটনায় গ্রেফতার করা হল ২০ জনকে। গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মা বলেন, হ্যাঁ বাবা, সকালের ঘটনা। আমার বাবারে এরকম করে ধরে আছে। দেখতে পাই না, আমার বাবার কত কষ্ট... আমার সামনে দিয়ে ছুটে পালাচ্ছে। আমিও পিছন দিয়ে ছুটে গেছি, আমার বাবা যাতে পালাতে পারে। আমাদের তো পিছনে ভয় আছে যদি কিছু হয়। কী বলব, আমার কোলের ছেলে বাবা। বারুইপুরে একটি ছোট্ট বাড়িতে থাকতেন ইন্দ্র মণ্ডল। অটো চালাতেন তিনি। বাবার একটি দোকান রয়েছে। দাদা গাড়ি চালিয়ে রোজগার করতেন। কিন্তু অসুস্থ হয়ে পড়ায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়।গণপিটুনিতে নিরপরাধ ছেলের এমন পরিণতিতে হাহাকার নেমে এসেছে পরিবারে। গণপিটুনিতে নিহত ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের বউদি বলেন,এইখানটায় সবাই ঘরে বসেছিল। মারতে মারতে জামার কলার ধরে নিয়ে চলে গেল। প্রচুর লোক, প্রচুর লোক। আমরাও পিছনে পিছনে গেছি। পিছনে পিছনে যাচ্ছিলাম। সবাই বলে তোমাদেরও মেরে দেব। বাঁশ ছিল, তারপর ইট, লাঠি মেরেছে। ভয়েতে আবার জলে পড়ে গেছে। এখান থেকে নিয়ে বাজারে, ওখানে মরে গেছে। এখান থেকে বলছে আমি করিনি, আমি করিনি।' ধৃতদের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
