পার্থপ্রতিম ঘোষ, রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ : শুক্রবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে তাণ্ডব! অবরোধ! ট্রেনের সামনে বিক্ষোভ! এরপর মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছিলেন 'আমি সংখ্যালঘু ভাইবোনেদের কাছেও আবেদন করব যারা করছেন, শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের ওপর ভরসা রাখুন। ' কিন্তু কোনওকিছুতেই হল না কাজ। কিন্তু কোনও কিছুতেই কাজ হল না! বেলডাঙার বিক্ষোভে লাগাম টানতে শনিবারও কার্যত ব্যর্থ হল প্রশাসন। ফের অবরোধ করা হল ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক। এদিনও রাস্তা আটকে চলল বিক্ষো চলে। শুক্রবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙার মহেশপুর। আর শনিবার নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল মহেশপুর থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে বড়ুয়ামোড়। আর বেলডাঙা থানা থেকে বড়ুয়ামোড়ের দূরত্ব ১ কিলোমিটার। কিন্তু তার পরও প্রায় ১ ঘণ্টার ওপর চলে অবরোধ।
এরপর, দুপুর ১ টা ১৫ নাগাদ লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভ সরিয়ে দেয় পুলিশ। আর এখানেই প্রশ্ন উঠছে, শুক্রবারের ঘটনার পরও কেন বাড়তি পুলিশ এলাকায় মোতায়েন করা হল না? থানা থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে ফের বিক্ষোভ-অবরোধ চলল কী করে? যদিও পুলিশের দাবি, তাঁরা ধৈর্য রেখেছিলেন। কিন্তু শনিবার সব সীমা পেরিয়ে যায়। শনিবার মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপার বলেন, 'সব জিনিসের একটা লিমিট থাকে, কালকে আমরা অনেক ধৈর্য রেখে কথা বলেছি, অসুবিধা হলে, সব জিনিসের একটা প্রসেস আছে, পুলিশ আগে থেকে ছিল, হঠাৎ করে তো লাঠি চার্জ করা যাবে না...তাই আগে কথা বলতে হয়েছে।'
শুক্রবার বেলডাঙা অশান্তি ও সাংবাদিকের উপর আক্রমণ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি কি তাঁদের আটকাতে পারি? কোনও সাংবাদিকদেরও গায়ে কেউ হাত দেবেন না সবার কাছে অনুরোধ থাকবে।'
শুক্রবারের পর শনিতেও বেলডাঙা স্টেশনেও তাণ্ডব শুরু করে বিক্ষোভকারীরা। ফের বন্ধ হয়ে যায় রেল চলাচল। আর এরপর অবশেষে বেলডাঙা স্টেশনে অ্যাকশন মোডে দেখা যায় পুলিশকে। মুর্শিদাবাদের পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে নামে গোটা টিম। পুলিশের সঙ্গে অ্যাকশনে নামে RAF-ও। এদিন বেলডাঙা স্টেশন থেকে কয়েকজনকে আটক করে আরপিএফ।
এদিন বেলডাঙায় পৌঁছে যান ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। অবরোধ তুলতে বললেন বিক্ষোভকারীদের। কাল যা করার করেছেন, আজ আবার কীসের অবরোধ? অবরোধ দেখে বললেন ক্ষুব্ধ হুমায়ুন কবীর।