বিজেন্দ্র সিংহ, অরিত্রিক ভট্টাচার্য, দীপক ঘোষ, কলকাতা: স্ক্রুটিনিতে আরও ৭দিন, ১৪ ফেব্রুয়ারি নয় চূড়ান্ত তালিকা। রাজ্যের ৮ হাজার ৫০৫জনের তালিকা, কালকের মধ্যে কাজে যোগের নির্দেশ। কাল বিকেল ৫টার মধ্যে কমিশনের কাছে রিপোর্টিংয়ের নির্দেশ। 'কমিশন চাইলে ERO, AERO-দের তালিকায় বদল করতে পারে', SIR-মামলায় জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। 'মাইক্রো অবজার্ভার হিসেবে কাজ করবেন এই সাড়ে ৮ হাজার অফিসার। ERO, AREO-দের সাহায্যকারী হিসেবে থাকবেন মাইক্রো অবজার্ভাররা। নাম বাদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন না মাইক্রো অবজার্ভাররা', স্ক্রুটিনির সময়সীমা আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।
আরও পড়ুন, এবার হুমায়ুনের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ "ধ্বংসের" হুমকি বিশ্ব হিন্দু রক্ষা পরিষদের !
ভোটের মুখে তাড়াহুড়ো করে SIR করা হচ্ছে প্রথম থেকেই অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। সময়ের মধ্যে শুনানি পর্ব শেষ না হওয়ায়, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও ৭ দিনের জন্য সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করেছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর। এই প্রেক্ষাপটে, সোমবার কার্যত দুই পক্ষকেই স্বস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতির সূর্যকান্তর বেঞ্চ, স্ক্রুটিনির জন্য আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর নির্দেশ দিল।ফলে ১৪ ফেব্রুয়ারি যে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হচ্ছে না, তা নিশ্চিত হয়ে গেল।৫ মে মাসে তৃণমূল সরকারের মেয়াদ শেষ। তার আগেই বিধানসভা ভোট হয়ে যাওয়ার কথা। এই প্রেক্ষাপটে গত নভেম্বর থেকে যখন SIR প্রক্রিয়া পশ্চিমবঙ্গে শুরু হয়, তখন থেকেই বিরোধিতা করতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আনতে নির্বাচন কমিশন তাড়াহুড়ো করে ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলে, অভিযোগ তুলতে থাকে তৃণমূল। অন্যদিকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শুনানি পর্ব শেষ না হওয়ায়, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে আরও ৭ দিন সময়সীমা বাড়ানোর জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছিল মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে। এদিন সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের তরফেও সময়সীমা বাড়ানোর আর্জি জানানো হয়। সনাতনী সংসদের পক্ষ থেকে এদিন তারিখ বাড়ানোর দাবি জানিয়ে বলা হয়, তাদের ফর্ম সেভেন পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কাজের অগ্রগতি দেখে প্রধান বিচারপতি বলেন,যেহেতু ইতিমধ্যে জমা দেওয়া নথিগুলোর যাচাইয়ের কাজ চলছে, তাই নোটিস-পরবর্তী নথিগুলোর খতিয়ে দেখতে আরও সময় লাগবে।তাই সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, নথি যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে এবং উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নিতে ১৪ ফেব্রুয়ারির পর থেকে আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হোক। তবে চূড়ান্ত তালিকা কবে প্রকাশ করা হবে, তা এখনও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়নি।