পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : গ্রেফতার জাহাঙ্গির খান। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। তারপরেই জাহাঙ্গির খানের আর কোনও খোঁজ মিলছিল না। তাঁর খোঁজে STF এবং বেঙ্গল পুলিশের একটা টিম এবং একাধিক টিম গঠন করা হয়েছিল। অবশেষে রাজ্য পুলিশের STF-এর হাতে গ্রেফতার জাহাঙ্গির।
STF সূত্রে খবর, ভারত-নেপাল সীমান্তে বাড়িভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করেছিল জাহাঙ্গির। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, 'পরিবার নিয়ে লোকচক্ষুর আড়ালে থাকতে শুরু করেছিলেন জাহাঙ্গির খান। নেপালে পালিয়ে গিয়ে পাকাপাকি থাকার চেষ্টা করছিলেন। আগেভাগে নেপালের স্কুলে ভর্তি করেছিলেন সন্তানদের। মিলেছে জাহাঙ্গিরের সন্তানদের স্কুলে ভর্তির তথ্যও। পুলিশ বলছে, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। তার পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁর খোঁজ শুরু হয়েছিল।
কী করে জাহাঙ্গিরের খোঁজ পেল পুলিশ ?
জাহাঙ্গিরের বিভিন্ন সঙ্গীদের গ্রেফতার করে পুলিশ জানতে পারে, তিনি নেপালে যাতায়াত করতেন। সেই সূত্রেই জাহাঙ্গিরের এক কাছের লোক যে নেপালে থাকত তাকে ট্র্যাক করতে শুরু করে পুলিশ। তাকে ট্র্যাক করে জানা যায়, ঘরভাড়া নিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে থাকতে শুরু করে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। নেপালে জাহাঙ্গিরের সন্তানকে ভর্তি করার কাজও এগোয়। পুলিশ জানতে পারে, জাহাঙ্গির বাংলা-নেপাল বর্ডারের কাছে রয়েছেন। সেইমতো টিম গঠন করা হয়। টিম গঠন করে সাদা পোশাকের ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশ এবং এসটিএফের টিম সেখানকার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশ আসছে খবর পেয়ে পালাতে শুরু করেন জাহাঙ্গির। তাঁকে ধরপাকড়ের জন্য দৌড়াদৌড়িও শুরু হয়ে যায়। শেষমেশ তাঁকে ধরে ফেলে পুলিশ।
কয়েকদিন আগেই ফলতার পুনর্নির্বাচনে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ফলতার স্বঘোষিত 'পুষ্পা'র। এই পরিস্থিতিতে কয়েকদিন আগে তাঁর রক্ষাকবচও তুলে নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। আর তারপর থেকেই কোনও খোঁজ মিলছিল না, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা, জাহাঙ্গির খানের। পুলিশ সূত্রের খবর, জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে ফলতা থানায় খুন, খুনের চেষ্টা, তোলাবাজি, হুমকি, বাড়ি ভাঙচুর, লুঠ-সহ একাধিক অভিযোগে মোট ৭টি FIR দায়ের হয়েছে।
সম্প্রতি জাহাঙ্গির খানের রক্ষাকবচ তুলে নেয় হাইকোর্ট। বিচারপতি বিচারপতি পার্থসারথি সেন বলেন, পুলিশ যখন মামলা রুজু করেছে, তখন তদন্ত হবেই। সেই অবস্থায় জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করার ক্ষেত্রে আইনি বাধা সরে যেতেই তাঁর গ্রেফতারির দাবিতে সরব হন ফলতাবাসী। এবার গ্রেফতার হলেন 'পুষ্পা'।
