কলকাতা: বড়মা বীণাপানি দেবীর প্রয়াণ দিবসে মতুয়া আবেগে শান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এক্স হ্যান্ডল পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লিখেছেন,'বিজেপি সরকারের চক্রান্তে মতুয়া ভাই-বোনেদের অস্থির ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে রাজনীতির খেলা চলছে। তাঁদের পরিচয় নিয়েই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। SIR করে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। যাঁরা পুরুষানুক্রমে এদেশের নাগরিক, যাঁদের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়।...তাঁদের নতুন করে নাগরিকত্ব দেওয়ার নামে অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড় করানো হচ্ছে।এই অন্যায় আমরা মেনে নেব না।'
আরও পড়ুন, অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য, যুদ্ধের আজ ষষ্ঠ দিন, ইরানে এখনও পর্যন্ত ১ হাজার ১৪৫ জনের মৃত্যু !
উত্তর ২৪ পরগনা ও নদিয়ার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্য়াক্টর। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া, তথ্য অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ১ লক্ষ ৪২ হাজারের বেশি এবং নদিয়ায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার নাম গেছে।SIR-এর রেজাল্ট আউটের পর,নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত SIR-এ প্রায় সাড়ে ৬৩ লক্ষের বেশি নাম বাদ গেছে।নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া, জেলা ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ২৯৭ এবং নদিয়ায় ২ লক্ষ ৭৬ হাজার নাম গেছে।তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই দুই জেলার একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোট বড় ফ্য়াক্টর।
SIR শুরুর পর থেকেই মতুয়ারা দুশ্চিন্তায় ছিলেন, ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম থাকবে তো? তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে তো? এনিয়ে বিজেপি এবং মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছিলেন অনেকে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, বনগাঁর মতুয়াবাড়ি যে বিধানসভার অন্তর্গত, সেই গাইঘাটা বিধানসভায় ৬ হাজার ৭৭০ জনের নাম বাদ গেছে। পাশের বনগাঁ উত্তর বিধানসভায় ৭ হাজার ৯২৬। বনগাঁ দক্ষিণ বিধানসভায় ৬ হাজার ৯০২, বাগদা বিধানসভায় নাম বাদ গেছে ১৫ হাজার ৩০৩ জনের। জগদ্দলে ৮ হাজার ৭৭৮জনের নাম বাদ গেছে।অন্যদিকে, নদিয়া জেলার কল্যাণীতে ৯ হাজার ৩৭জন, শান্তিপুরে ৮ হাজার ৪২জন, রানাঘাট দক্ষিণে নাম বাদ গেছে ৭ হাজার ১২৬ জনের।
প্রথম ধাপে, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর বনগাঁর মতুয়া বাড়ির সদস্য় এবং বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের মুখে শোনা গেছে আশ্বাসের সুর।কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর বলেন, কার নাম বাদ যাবে কী হবে সেটা আমরা বলতে পারব না, সেটা আমাদের বলারও কথা নয়। তবে এইটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে, ২০২৪ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত যাঁরা এসেছে, তাদের কাউকে ভারতবর্ষ থেকে বাইরে পাঠানো হবে না। এই প্রেক্ষাপটে অনেকে আবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন, SIR-আবহে মতুয়ারা যখন দুশ্চিন্তায়, তখন এই শান্তনু ঠাকুরই ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন। শান্তনু ঠাকুর বলেন, ৫০ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমান, বাংলাদেশি মুসলমান, পাকিস্তানি মুসলমান যদি বাদ যায়, তার মধ্যে এক লাখ যদি আমাদের সমাজের মানুষকে যদি একটু স্টপ থাকতে হয়? ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হয় তাহলে কোনটা লাভ? ' এখন তাঁর আশ্বাস নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল।
