উত্তর ২৪ পরগনা, সমীরণ পাল: এসআইআর ইস্যুতে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পেয়েছে এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকা। সেখানে নাম বাদ পড়েছে বহু মানুষের। এছাড়াও প্রায় ৬০ লক্ষ মানুষের নাম 'বিবেচনাধীন' ক্যাটেগরির আওতায়। সেই ভোটারদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এখনও সময়ের অপেক্ষা। এমতাবস্থায় দেখা গেল, উত্তর ২৪ পরগনার (North 24 Parganas) দত্তপুকুরে (Duttapukur) চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গেছে এক বিজেপি নেতার। নাম জয়দেব পাল। তিনি জেলায় বিজেপির OBC মোর্চার আহ্বায়ক। 

Continues below advertisement

স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এসআইআরের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (SIR Final List) নাম বাদ গেছে খোদ বিজেপি নেতার! আর তা নিয়ে রাজনৈতিক আকচাআকচি শুরু হয়েছে উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুরে। জানা যাচ্ছে, জয়দেব পাল নামের ওই বিজেপি নেতা জেলায় বিজেপির OBC মোর্চার আহ্বায়ক পদে রয়েছেন। এর আগে ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার OBC মোর্চার সভাপতি ছিলেন তিনি। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিন প্রকাশিত এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁকে 'ডিলিটেড' ভোটার হিসেবে দেখানো হয়েছে।  

রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই এসআইআরের চূড়ান্ত তালিকায় নাম বাদ গেছে বহু জনের। নিজেদের নাম তুলতে কৃষ্ণনগর থেকে বারাসাত, ভোররাত থেকে জেলাশাসকের দফতরের সামনে ভিড় জমিয়েছেন 'ডিলিটেড' ভোটাররা। আতঙ্কে রয়েছেন সকলে। দুর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। এই আবহে দত্তপুকুরে খোদ বিজেপি নেতার নাম বাদ যেতে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ। 

Continues below advertisement

জানা যাচ্ছে, আমডাঙা বিধানসভার চালতাবেড়িয়া এফ পি স্কুল ২৫০ নম্বর বুথের ভোটার ছিলেন জয়দেব পাল। দত্তপুকুরের রামকৃষ্ণপল্লি এলাকার বাসিন্দা এই বিজেপি নেতার অভিযোগ, মাইক্রো অবজার্ভার তৃণমূলের নির্দেশে কাজ করেছেন। সেই কারণে বৈধ নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ওঠেনি। এদিকে চুপ করে বসে থাকেনি তৃণমূলও। বিজেপি নেতার নাম ভোটার তালিকায় না থাকায় কটাক্ষ করতে ছাড়েনি রাজ্যের শাসকদল। 

প্রসঙ্গত, এসআইআরে এই বিপুল পরিমাণ নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে আজ ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দত্তপুকুরের এই ঘটনায় তৃণমূলের উপপ্রধান চূড়ান্ত তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া বিজেপি নেতা জয়দেব পালকে সেই ধর্নায় যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। জয়দেব পাল বলেন, "আমার এই বুথে এরকম প্রচুর হয়েছে। রাজ্য সরকারের কর্মচারীরা যারা মাইক্রো অবজার্ভার হয়েছেন, তারা বসে বসে বিজেপির (BJP) ভোট কেটেছে।" পাল্টা তৃণমূলের তরফে বলা হয়, "এখনও সময় আছে। উনি ফর্মটা ফিলআপ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দিন। যাতে নামটা ডিলিট না হয়।"