কলকাতা: লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে কমিশনকে নিশানা অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। তালিকা প্রকাশ না হওয়ায় তিনটি প্রশ্ন তুলে পোস্ট তৃণমূল সাংসদের। কী লুকোতে চাইছে কমিশন, প্রশ্ন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, রেড রোডে প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মহড়া চলাকালীন দুর্ঘটনা

Continues below advertisement

তিনি বলেন, '২৪ জানুয়ারির মধ্যে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কমিশন লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে পারল না। একটি সফটওয়ার এক ঘণ্টার মধ্যে ৭ কোটি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি খুঁজে পেয়েছিল। এখন সেই সফটওয়ার যুক্তি, গতি ও বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়ে ফেলেছে। কমিশন ঠিক কী লুকোতে চাইছে? যদি ১ ঘণ্টায় ডিসক্রিপেন্সি খুঁজতে পারে, তাহলে প্রকাশ করতে এত দিন কেন লাগছে?', ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে কি লজিক খুঁজছে কমিশন? প্রশ্ন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর, শনিবারের মধ্যে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছিল নির্বাচন কমিশনের তরফে। কিন্তু শনিবারও প্রকাশ করা হল না সেই তালিকা। কমিশন সূত্রে দাবি, তালিকা প্রস্তুত আছে। EROদের কাছে পৌঁছে গেছে তালিকা। ছাপিয়ে প্রকাশ করার অপেক্ষা। 'ডেডলাইন' ছিল শনিবার, কিন্তু এদিন রাত পর্যন্তও প্রকাশ করা হয়নি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা। কবে প্রকাশ করা হবে, তা নিয়েও থেকে গেছে ধোঁয়াশা। ১৯ জানুয়ারি, সোমবার , সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়, 'লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি' বা 'তথ্য়গত অসঙ্গতি'র তালিকা প্রকাশ করতে হবে।তালিকায় কাদের নাম রয়েছে প্রকাশ্য়ে তা জানাতে হবে। প্রকাশ্য়ে টাঙিয়ে দিতে হবে সেই তালিকা। এরপরই ২১ জানুয়ারি একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। সেখানে বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২৪ জানুয়ারি, শনিবারের মধ্যে প্রকাশ করা হবে লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা।কিন্তু কোথায় কী? এখনও পর্যন্ত কোথাও টাঙানো হয়নি লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা। আর এতেই বাড়ছে ধোঁয়াশা। 

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশের পরেও, নির্বাচন কমিশন ২৪ জানুয়ারি 'লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি'র তালিকা প্রকাশ করতে ব্যর্থ। যে সফটঅয়ার খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পরই ১৬ ডিসেম্বর মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যে ৭ কোটিরও বেশি ফর্ম মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ করে অলৌকিকভাবে 'লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি' খুঁজে বের করেছিল, সেই সফটঅয়ারটি এখন যুক্তি, গতি, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কার্যকারিতা হারিয়েছে বলে মনে হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন ঠিক কী লুকনোর চেষ্টা করছে? যদি এক ঘণ্টার মধ্যে ত্রুটিগুলো শনাক্ত করা যায়, তবে সেগুলো প্রকাশ করতে কেন দিনের পর দিন সময় লাগছে? নির্বাচন কমিশন কি যুক্তি খুঁজছে নাকি ত্রুটিগুলো লুকোচ্ছে? তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক  কুণাল ঘোষ বলেন,'এক কোটি ৩৬ লক্ষ একটা সংখ্যার ওপর নোটিস গেছে। তাহলে তালিকা কেন প্রকাশ পেল না? তার মানে লিস্ট নেই অথবা ব্যাপক কারচুপি বা বিজেপির রাজনৈতিক সুপারিশে তালিকা হয়েছে।' সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত 'লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি' থাকা ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ২০ লক্ষ।