কলকাতা: পানিহাটি, ইলামবাজার, টিটাগড়ের পর এবার পূর্ব বর্ধমানের জামালপুর। SIR আতঙ্কে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠতেই এবার সোশাল মিডিয়ায় সরব তৃণমূল কংগ্রেস। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, BLO-র পদ থেকে সরানো হল কাটোয়ার তৃণমূল নেতাকে !

Continues below advertisement

সোশ্যাল পোস্টে লেখা হয়েছে, 'বিজেপির ভয় ও ঘৃণার রাজনীতির কারণে আরও একটি মূল্যবান প্রাণ হারাতে হল। পানিহাটির ৫৭ বছর বয়সী প্রদীপ কর আত্মহত্যা করেছেন। তাঁর সুইসাইড নোটে NRC-কে দায়ী করেছেন। দিনহাটায় এক বৃদ্ধ SIR প্রক্রিয়ায় হয়রানির আতঙ্কে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতয়ালির ৯৫ বছরের ক্ষিতীশ মজুমদার। যিনি ইলামবাজারে তাঁর মেয়ের সঙ্গে থাকতেন, তিনি নিজের জীবন শেষ করেছেন। এবার জামালপুরের নবগ্রামের বাসিন্দা, পরিযায়ী শ্রমিক বিমল সাঁতরা SIR আতঙ্কে প্রাণ হারালেন। আতঙ্কিত করতে ও উচ্ছেদের উদ্দেশে তৈরি এটা এমন একটা প্রক্রিয়া। যার বিনিময়ে মানুষকে মূল্য চোকাতে হচ্ছে। SIR হল একটা ভয় দেখানোর অস্ত্র, যা আমাদের জনগণকে হতাশায় ঠেলে দেয়। তাঁদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করে।'

পানিহাটি, ইলামবাজার, টিটাগড়ের পর এবার আরও একটি মর্মান্তিক ঘটনা রাজ্যের মাটিতে। তামিলনাড়ুতে মৃত্যু হয়েছে জামালপুরের পরিযায়ী শ্রমিকের। ৫১ বছর বয়সী ওই পরিযায়ী শ্রমিকের নাম বিমল সাঁতরা। তিনি মূলত জামালপুরের নবগ্রামের বাসিন্দা। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে জানিয়েছেন,'SIR আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে বাবা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। SIR হলে ভোটার তালিকায় নাম থাকবে কিনা, সেই নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। SIR আতঙ্কের জেরেই মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি  ছেলের।২৬ অক্টোবর তামিলনাড়ুর হাসপাতালে ভর্তি হন ওই প্রৌঢ়। ৩০ অক্টোবর তামিলনাড়ুর হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।  একের পর এক SIR-এ মৃত্যু,  দায়ী নির্বাচন কমিশন বলে অভিযোগ তৃণমূলের। SIR-এ মৃত্যু নয়, অন্যকোনও কারণে মৃত্যু হতে পারে, দাবি বিজেপির। 

সম্প্রতি ব্যারাকপুর পুরসভা এলাকায় একটি ঘটনা ঘটে। বছর ৩২ এর ওই গৃহবধূর নাম কাকলি সরকার। ২০১০-১১ সালে বিয়ে হয় এবং তারপর ২০১৬ থেকে পাকাপাকিভাবে, এদেশে বসবাস করছিলেন। ভারতীয় নথি তৈরি হয়ে গিয়েছিল। ভোটার কার্ড এবং আঁধার কার্ড। তার স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে নিয়ে তিনি থাকছিলেন। শাশুড়ি যেটা অভিযোগ করছেন যে, NRC এর জন্য তিনি আতঙ্কিত ছিলেন। সেটা তিনি (মৃতা গৃহবধূ কাকলি সরকার) বারবার শাশুড়িকে জানিয়েছিলেন। গতকাল সন্ধ্যায়, শাশুড়ির সঙ্গেই ছিলেন। হঠাৎই তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তারপর অন্যান্য লোকজন গিয়ে দেখতে পায়, বাড়ির দোতালার ছাদে গিয়ে, গায়ে আগুন দিয়ে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। এরপর তাঁকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।