কলকাতা: ERO এবং AERO এর বিরুদ্ধে অবশেষে রাজ্যের তরফে এফআইআর করা হয়েছে, এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে।   আজ সন্ধের মধ্যে এফআইআর করতে হবে বলে নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে ডেডলাইন বেধে দেওয়া হয়েছিল। তবে এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, 'যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, তাদের পাশে আছে সরকার।'

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, "এই ৫৮ লক্ষের মধ্যে অনেক বৈধ আছে"! চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে বিস্ফোরক অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর, কাকে বললেন, "আপনার চাকরি থাকবে তো ?"

Continues below advertisement

কমিশনের ডেডলাইনের আগেই এফআইআর করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, চারজন ইআরও এবং এইআরও-র বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। সঙ্গে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরও আছেন। অর্থাৎ ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। এদিন বিকেল ৫ টা অবধি কমিশনের দেওয়া ডেডলাইন ছিল। সেই নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে, ভদ্রতার খাতিরে। কারণ নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছিল, চিঠি পাঠানো হয়েছিল। সেই নিয়েই ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশে এদিন তিনি বলেছেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, তাঁদের পাশে রাজ্য সরকার রয়েছে। মূলত কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্য সরকার অ্যাকশন নিয়েছে। 

ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্তির কাজে গাফিলতির অভিযোগে FIR 

বারুইপুর পূর্বের ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরীর বিরুদ্ধে FIRবারুইপুর পূর্বের AERO তথাগত মণ্ডলের বিরুদ্ধে FIRময়নার ERO বিপ্লব সরকারের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের FIRময়নার AERO সুদীপ্ত দাসের বিরুদ্ধেও রাজ্য সরকারের FIR

 মঙ্গলবার দুপুরে ERO, AERO-সহ ৫জনের বিরুদ্ধে FIR করল রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে খবর, ERO, AERO-র সঙ্গে একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটরের বিরুদ্ধেও FIR করা হয়েছে। বেআইনিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তোলার অভিযোগে, বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের ERO দেবোত্তম দত্ত চৌধুরী ও AERO তথাগত মণ্ডল, ও পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না বিধানসভা কেন্দ্রের ERO বিপ্লব সরকার এবং AERO সুদীপ্ত দাস এবং ডেটা এন্ট্রি অপারেটর সুরজিৎ হালদারের নামে FIR দায়ের করা হয়েছে। 

 গত বছরের ১৩ই অগাস্ট,দিল্লিতে, নির্বাচন কমিশনের দফতরে যান তৎকালীন মুখ্য়সচিব মনোজ পন্থ। ঘণ্টাখানেকের বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশ কার্যকর করতে বলেছিল... যেমন, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও ময়নার দু'জন করে ERO ও AERO এবং একজন ডেটা এন্ট্রি অপারেটর, মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে FIR করতে হবে। সেই নির্দেশ কার্যকর হয়নি। এরপর, গত  ১৩ ফেব্রুয়ারি  বর্তমান মুখ্য়সচিবকে ডেকে পাঠায় নির্বাচন কমিশন। 

সূত্রের খবর, মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে ১ ঘণ্টার বৈঠক হয় নন্দিনী চক্রবর্তীর। কিন্তু তারপরও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। FIR-ও করা হয়নি। শেষমেশ মঙ্গলবার বিকেল ৫টার ডেডলাইন বেঁধে দেয় নির্বাচন কমিশন। নবান্ন সূত্রে খবর, ডেডলাইন শেষের আগেই FIR করা হয়েছে ৫ জনের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে বসিরহাট ২ নম্বর ব্লকের BDO সুমিত্র প্রতিম প্রধানকেও সাসপেন্ড করল রাজ্য সরকার। তাঁর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করে নিজের উদ্যোগে ১১ জন অতিরিক্ত AERO  নিয়োগের অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন।