কলকাতা: SIR নিয়ে লাগাতার হয়রানি-হেনস্থার অভিযোগের মধ্যেই অভিনেতা-সাংসদ দেব শুনানিতে হাজির হলেন। বুধবারশুনানির পর দেব ইঙ্গিতে বোঝালেন, রাজনীতি করার জন্য অনেক সময়ই কিছু পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।

Continues below advertisement

দেব বলেন, 'যাঁরা সিনিয়র সিটিজেন, একা থাকেন, বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা আছে, দাঁড়াতে পারেন না, যাঁরা ভয় পান এত বড় লাইনে দাঁড়াতে, হারিয়ে যাব না তো, এরকম সংশয় থাকে, তাঁদের কথা ভাবা উচিত কমিশনের। এরকম প্রচুর মানুষ আছেন। তাঁদের কাছে যদি প্রতিনিধি পাঠিয়ে পরিচয় প্রমাণ করার সুযোগ দেওয়া হয়, ভাল হয়। সিনিয়র সিটিজেন বলতে আমি বলছে যাঁরা সত্তরোর্ধ্ব। বা আশি কী নব্বই বছর বয়স। এঁদের কথা নির্বাচন কমিশন ভাবলে ভাল হবে।'

সামনেই পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন। দেব বলছেন, 'সমস্ত দলকে বলতে চাই, এই নির্বাচন হচ্ছে দেশকে এক করার জন্য। দেশকে ভাগ করার জন্য নয়। আমি চাইব সমস্ত রাজনৈতিক দল, তাদের নেতারা মানুষকে এক হওয়ার বার্তা যেন দেন। এমন কিছু যেন না হয় যাতে এই রাজ্যের নাম খারাপ হয়। কারণ এই রাজ্যটা দেশের বাইরে নয়। রাজ্যের নাম খারাপ হওয়া মানে দেশের নাম খারাপ হওয়া। দায়িত্বশীল নেতা হিসাবে সকল রাজনৈতিক দল যেন তাদের প্রতিনিধিদের বলে, যাই হোক না কেন আমাদের রাজ্যের, আমাদের দেশের নাম যেন খারাপ না হয়। মানুষ যেন এক থাকে, এটা যেন তাঁদের কথাবার্তার মধ্যে থাকে।'

Continues below advertisement

দেব যোগ করেন, 'আমাকে কেন ডাকা হয়েছে সেই কারণ আমি জানি না। আমি দেশকে ভালবাসি। নিয়ম মেনে চলতে হবে। ফর্ম যেভাবে এসেছে আমরা ফিল আপ করেছি। আমি কাউকে দোষারোপ করছি না, এটা নির্বাচন কমিশনে ভুল কিংবা দেবের ভুল। আমি শুধু বলব, ২০১৪ থেকে আমি যে তিনটি ভোট দিয়েছি, সেগুলো কি ইনভ্যালিড হয়ে গেল? যারা ২০১১, ২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২৪ সালে ভোট দিয়েছেন, সব কি অবৈধ হয়ে গেল? নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই কিছু চিন্তাভাবনা করে এসব করছে। এ নিয়ে আমার দলের মুখপাত্র যা বলার বলেছেন। দিদি বলেছেন। আমি আমার পাসপোর্ট নিয়ে এসেছি। দেখালাম।'

তাঁকে কি হেনস্থা করা হচ্ছে এভাবে? দেবের জবাব, 'যেহেতু আমি সাংসদ, সাংসদ বা রাজনীতিকদের হ্যারাসমেন্ট শব্দটা বাদ দেওয়া উচিত। এই দলে থাকলে ওই দল হ্যারাস করবে, ওই দল করলে এই দল হ্যারাস করবে। এটা এখন নিউ নর্ম্যাল হয়ে গিয়েছে। রাজনীতিতে আসার পর খুব স্বাভাবিক জীবন যাপন করছি, তা নয়।'