আবির দত্ত, কলকাতা - ভাঙড়ে বিস্ফোরণে মৃত্যু, বিস্ফোরণকাণ্ডে তদন্তভার নিতে চলেছে NIA। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক থেকে এ নিয়ে অর্ডার ইতিমধ্যেই চলে এসেছে, খবর NIA সূত্রে। বিস্ফোরণকাণ্ডের পিছনে বড় ষড়যন্ত্র আছে, মনে করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। গতকাল ঘটনাস্থলের অদূরেই উদ্ধার ৮৪টি বোমা, একটি আগ্নেয়াস্ত্র। বোমা বিস্ফোরণকাণ্ডে ইতিমধ্যে ২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই বিস্ফোরণকাণ্ডে এক্সপ্লোসিভ অ্যাক্টে মামলা করেছিল পুলিশ। সেই মামলায় FIR করে তদন্ত হাতে নিতে চলেছে NIA.
ভাঙরে বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্তভার নিতে চলেছে NIA. বৃহস্পতিবার ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ায় বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণের অভিযোগ ওঠে। যার পিছনে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে দাবি করে ISF. যদিও সেই দাবি নস্য়াৎ করেছে তৃণমূল। অন্য়দিকে, সেদিনই বিস্ফোরণের দিন হাড়োয়ায় একটি মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সূত্রের দাবি, মৃত মসিউর কাজি বিস্ফোরণস্থলে গেছিলেন। তাঁর পরনের লুঙ্গির টুকরো পাওয়া যায় ঘটনাস্থল থেকে। তদন্তে নেমে সুজয় মণ্ডল ও সুরজ মোল্লা, ২জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনায় বিস্ফোরক আইনে মামলা রুজু করে পুলিশ। সেই কেস FIR করে তদন্ত হাতে নিতে চলেছে এনআইএ।
কী ঘটেছিল
গত সপ্তাহের বুধবার ভাঙড়ে বোমা বিস্ফোরণ হয়। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাড়োয়ায় উদ্ধার করা হয় তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ। এর ৬ দিনের মাথায়, রহস্যের কিনারা করল বিজয়গঞ্জ থানা। পুলিশের দাবি, বোমা বাঁধতে গিয়েই, বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় মসিউর কাজির। দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন তিনি। এই ঘটনায় সঞ্জয় মণ্ডল নামে এক অ্যাম্বুল্যান্স চালককে গ্রেফতার করেছে পুুলিশ।
ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে বিকট বিস্ফোরণ হয়। কয়েক ঘণ্টা পর, উত্তর চব্বিশ পরগনার হাড়োয়ায় রাস্তার ধারে, তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজির দেহ উদ্ধার হয়। প্রশ্ন ওঠে, এই দুই ঘটনার মধ্যে কি কোনও যোগসূত্র আছে? তদন্তে নামে বিজয়গঞ্জ থানা। পুলিশ সূত্রে দাবি, তদন্তে উঠে এসেছে, ভাঙড়ের পশ্চিম বামুনিয়া গ্রামে, সহযোগী সঞ্জয় মণ্ডলকে নিয়ে বোমা বাঁধছিলেন তৃণমূল নেতা মসিউর কাজি। সেই সময়, কোনওভাবে বিস্ফোরণ হলে গুরুতর জখম হন তাঁরা।
জখম অবস্থায়, দুজনকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে পালিয়ে যাচ্ছিলেন বাকিরা। পথেই মৃত্যু হয় মসিউরের। সুযোগ বুঝে, হাড়োয়ার ঝুঝুরগাছার কাছে, তৃণমূল নেতার দেহ ফেলে পালিয়ে যায় অন্যরা। কিছুটা পথ পেরনোর পর জখম অবস্থায় সঞ্জয় মণ্ডলকে হাতেনাতে পাকড়াও করে পুলিশ। তাঁকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খুন নয়, বোমা বাঁধতে গিয়েই, বিস্ফোরণে তৃণমূলের বুথ সভাপতি মসিউর কাজির মৃত্যু হয়েছে। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের পর হাড়োয়ায় তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারের ঘটনায়, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে বিজয়গঞ্জ থানার পুলিশ।
