হিন্দোল দে, কলকাতা: মেদিনীপুরের পর ভাঙড় (Bhangar News), ফের ফুটবল ম্যাচ ঘিরে অশান্তি। তৃণমূল নেতার ভাইপোর পর এবার শাসক নেতার 'দাদাগিরি'! বিডিওর সামনেই শিক্ষককে 'মার', অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। অভিযোগ অভিযুক্ত ব্যক্তি খয়রুল ইসলাম তৃণমূল নেতা সওকত মোল্লা ঘনিষ্ঠ। খয়রুল ইসলাম ভাঙড় ২ পঞ্চায়েত সমিতির বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ। তাঁর স্ত্রী ভগবানপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত প্রধানও। 

ভগবানপুর হাই স্কুল ও সরোজনী হাই মাদ্রাস স্কুলের মধ্যে ভাঙড়ের কারবালা মাঠে ফুটবল ম্যাচটি আয়োজিত হয়েছিল। ভাঙড় ২-র বিডিও-র দ্বারাই আয়োজিত এই ফাইনাল ম্যাচ ড্রই চলছিল। নির্ধারিত সময়ে দুই দলের কেউই গোল করতে পারেননি। অতিরিক্ত সময়ে গড়ায় খেলা। সেই অতিরিক্ত সময়েই যত অশান্তি। খেলায় দু'দলের পক্ষেই পাস আউট ও বহিরাগতদের নামানোর অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয় বচসা, হাতাহাতি। এমনকী বিডিওর সামনে হাতিশালা সরোজনী হাই মাদ্রাস স্কুলের মহম্মদ নাসিরউদ্দিন নামের এক শিক্ষককে মারধরের পর্যন্ত অভিযোগ উঠল। পাশাপাশি ছাত্রদের ভয় দেখানোরও অভিযোগ উঠল।

নাসিরউদ্দিন বলেন, 'অপরপক্ষের তরফে দাবি করা হয় যে আমাদের হয়ে বহিরাগতরা খেলছে। তারা আগের পাস আউট। আমিও কিন্তু তখনই দেখিয়ে দিই যে ওদের দলেও বাইরের খেলোয়াড় খেলছে। বিডিও সাহেব আসার আগেই ভগবানপুর স্কুলের কিছু শিক্ষক ও স্কুলের সভাপতি খয়রুল ইসলাম, সে আবার স্থানীয় তৃণমূল নেতাও, ওরা আমাদের ছাত্রদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়।' তাঁর আরও অভিযোগ, 'খয়রুল প্রথমে এসে আমার মুখে ঘুসি মারে। তারপর সঙ্গে সঙ্গে ৩০ থেকে ৩৫ আমায় ঘিরে ফেলে টানা আধঘণ্টা ধরে লাথি, ঘুসি, চড় মারতে থাকে। আমার হাত কেটে গিয়েছে, আমার চশমা ভেঙে দিয়েছে। সেখানে উপস্থিত সিভিক ভলিন্টিয়ার উল্টে আমায় চার্জ করছে।' 

এই ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা খয়রুল ইসলামের বিরুদ্ধে উত্তর কাশীপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গোটা বিষয়টা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। গোটা ঘটনার সময় বিডিও, সওকত মোল্লা এবং কাশীপুর থানার পুলিশও সেই মাঠে উপস্থিত ছিলেন। বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা এ নিয়ে বলেন, 'সমাজবিরোধীদের নিয়ে দল গড়া হলে, তার অবস্থা তো এমনই হবে। নির্বাচনে জেতার জন্য মস্তান ও সমাজবিরোধীদের এককাট্টা করেছে তৃণমূল। তারা লাগামহীন হয়ে গিয়েছে, যে যার পারছে করছে। কোথায় রেফারিকে লাথি মারতে কোথাও শিক্ষককে মারছে। এদের দিয়েই তো ভোটে গুণ্ডামি করাতে হবে, তাই তৃণমূল কিছুই করছে না। সেই কারণেই এদের দাদাগিরি তৃণমূল কংগ্রেসকে সহ্য করতে হচ্ছে। আমার মতে এগুলি ২৬-এ তৃণমূলের বিনাশের পূর্ব লক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। যারা এমন করছে, তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।' এই বিষয়ে অবশ্য মন্তব্যে নারাজ অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। প্রতিক্রিয়া মেলেনি শাসক দলেরও।