হিন্দোল দে, পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : কেন্দ্রীয় নীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে ১০টি কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনের ডাকা সাধারণ ধর্মঘটে দিকে দিকে অশান্তির ছবি। কোথাও রেল লাইনে অবরোধের চেষ্টা। কোথাও বাস ডিপোয় গিয়ে গণপরিবহণ বন্ধ করার চেষ্টা করলেন বনধ সমর্থকরা। এদিকে প্রশাসনও তৎপর। কোনোভাবেই যেন সাধরণ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত না হয়। অভিযোগ, প্রশাসনের সঙ্গে সঙ্গে ধর্মঘট আটকাতে নেমে পড়েছে রাজ্যের শাসক দলের সমর্থকরাও। 

এদিন দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় পথে নামেন বনধ সমর্থকরা। লাল পতাকা নিয়ে যাদবপুরে পথ আটকানোর চেষ্টা করা হয়। যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে পোড়ানো হয় কুশপুতুল। টায়ার  জ্বালিয়ে কেন্দ্রীয় শ্রমনীতির প্রতিবাদ জানানো হয়। তখন পুলিশ আগুন নেভাতে গেলে ধস্তাধস্তিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে নিকটবর্তী একটি দোকানে, আগুন ধরে যায় তারে। নেভাতে গিয়ে জুতোয় আগুন লেগে যায় এক পুলিশকর্মীর। অন্যদিকে গাঙ্গুলিবাগান এলাকাতেও বের হয় বামেদের লম্বা মিছিল। বাঘাযতীন স্টেশনের প্ল্যাটফর্মেও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল শুরু করেন বনধ সমর্থকরা। যাদবপুর স্টেশনেও একই ছবি। তবে কোনওভাবেই যাতে রেল চলাচলে বিঘ্ন না-ঘটে, তা নিয়ে সতর্ক প্রশাসন। অন্যদিকে বেলঘরিয়ায় বিটি রোডে প্রবর্তক জুটমিলের সামনে ধর্মঘট সমর্থনকারীরা অবরোধ শুরু করে।  তাদের সঙ্গে বচসা বেঁধে যায় গাড়িচালকদের।  

অন্যদিকে হাওড়ার ডোমজুড়েও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে সকাল সকালই। সিপিএম কর্মীরা রাস্তায় নেমে বাস, লরি আটকানোর চেষ্টা করে। স্লোগান দিতে দিতে বাস চালক, লরি চালক এবং যাত্রীদের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে আসে ডোমজুড় থানার পুলিশ ও র‍্যাফ। এরপর লাঠিচার্জ করে ধর্মঘটের সমর্থকদের হঠিয়ে দেয় পুলিশ। ২ জন সিপিএম কর্মী আহত হলে ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গন্ডগোলের ঘটনায় ২ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

ধর্মঘটের বিরোধিতায় ইতিমধ্য়েই কড়া অবস্থান নিয়েছে নবান্ন। বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলা হয়েছে রাজ্য় সরকার ও সরকার পোষিত সমস্ত অফিস আজ খোলা থাকবে। আজ রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী ‘ক্যাজ়্যুয়াল লিভ’ নিতে পারবেন না। অর্ধদিবস ছুটিও নেওয়া যাবে না। আজ কোনও কর্মী অফিসে হাজিরা না দিলে তাঁর এক দিনের বেতন কাটা যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কর্মজীবন থেকেও ওই দিনটি বাদ পড়বে। কেউ হাসপাতালে ভর্তি থাকলে, পরিবারে কারও মৃত্যু হলে, ৮ জুলাইয়ের আগে থেকে কেউ গুরুতর অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকলে তাঁদের ছাড় দেওয়া হয়েছে। সমস্ত সরকারি বিভাগের কাছে আজ কর্মচারীদের উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য় জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।