কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, ভাস্কর মুখোপাধ্য়ায়, কলকাতা : বোলপুর থানার IC-কে কদর্যভাষায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অনুব্রত মণ্ডলের। সেই অডিও ক্লিপ ভাইরাল হতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিতে। এতটাই কদর্য তার ভাষা,প্রতি শব্দের পরই ব্যবহার করতে হয়েছে 'বিপ' শব্দ। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারকে 'কোয়ার্টার থেকে মারতে মারতে ' বের করে আনার হুমকি দেন সেই নেতা। নিজেই ফোনে দাবি করেন , তিনি অনুব্রত মণ্ডল। সেই অডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার । এই অডিও সামনে আসতেই অস্বস্তিতে পড়ে যায় তার দল। সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া হয় কড়া ব্যবস্থা। 

সুকান্ত মজুমদার অডিও শুনিয়ে অভিযোগ করেন, একজন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে কদর্য ভাষায় কথা বলেছে বীরভূমের প্রভাবশালী নেতা। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, 'এই কথোপকথন প্রকাশ্যে আসার পরে প্রশাসনে কী প্রভাব পড়বে?' তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম উল্লেখ করে বলেন, পুলিশমন্ত্রী ও  রাজ্যের ডিজি সাহেব রাজীব কুমার দ্রুত এই বিষয়ে তদন্ত করে রাজ্যবাসীর কাছে জবাবদিহি করুন। তৃণমূলের নেতাদের কাছে পুলিশ সুরক্ষিত না হলে সাধারণ মানুষের কি অবস্থা!                              

তৃণমূলের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ৪ ঘণ্টার মধ্যে যেন অনুব্রত মণ্ডল নিঃশর্ত ক্ষমা চান।  'কোনও পুলিশ আধিকারিকের প্রতি এধরনের মন্তব্য সমর্থন করে না দল' জানাল তৃণমূল। ক্ষমা না চাইলে অনুব্রত মণ্ডলকে শোকজ করা হবে বলে  জানিয়ে দিয়েছে  তৃণমূল। সেই সঙ্গে কমানো হল তার নিরাপত্তা। দল সূত্রে খবর, সরিয়ে দেওয়া হল অনুব্রতর ৫জন হাউস স্টাফ, ৪জন নিরাপত্তারক্ষীকে । সরিয়ে দেওয়া হল কেষ্ট মণ্ডলের জন্য বরাদ্দ একটি গাড়িও । 

কেষ্ট মণ্ডলের এই ভাষার তীব্র নিন্দা করেছেন বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। যে ভাষায় তিনি ওই পুলিশ আধিকারিক ও তাঁর বাড়ির মহিলাদের অপমান করেছেন, তার কড়া নিন্দা করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। ফেসবুকে পোস্ট করে তিনি লেখেন, 'এই ভাইরাল হওয়া ফোনালাপটি শুনলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে, রাজ্যের দুর্দমনীয় এবং দোর্দণ্ডপ্রতাপ মুখ্যমন্ত্রীর স্নেহের চাদরের তলায় কিভাবে ভয়াবহ সমাজবিরোধী ত্রাস'রা সযত্নে সুরক্ষিত রয়েছে! বীরভূমের ছাল ছাড়ানো বাঘ, যার কিনা মাঝে মধ্যেই ব্রেইনে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয় -- তিনি একজন পুলিশ আধিকারিকের সঙ্গে ঠিক কি ভাষায় কথা বলছেন! '