রুমা পাল, রাজীব চৌধুরী, কমলকৃষ্ণ দে, কলকাতা : বারবার বিতর্ক, কিন্তু কোনওবারই অনুব্রতর বিরুদ্ধে কোনও ব্য়বস্থা নেয়নি পুলিশ। উল্টে, তাঁর সুবিধা করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এবার সেই পুলিশকেই অনুব্রত মণ্ডলের অকথ্য় গালিগালাজের ভাইরাল অডিও ঘিরে তোলপাড় গোটা রাজ্য়।
ফের পুলিশকে হুমকি। আবার বিতর্কে সেই অনুব্রত মণ্ডল। এবার তো ভাইরাল অডিও ক্লিপে, IC-কে হুমকি দিতে গিয়ে অনুব্রত মণ্ডলের মুখে শোনা গেছে রাজ্য় পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারের প্রসঙ্গও ।
তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ব্য়বস্থা নেওয়ার দাবি যখন জোরালো হচ্ছে, তখন বিরোধীরা এও বলছে, অতীতে অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে ব্য়বস্থা নেওয়া তো দূরের কথা, বারবার তাঁকে আড়াল করার চেষ্টাই তো করেছে পুলিশ!
সময়টা ২০২২-এর ডিসেম্বর। গরুপাচার মামলায় তখন আসানসোল জেলে বন্দি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁকে দিল্লি নিয়ে যেতে তখন চরম তৎপর ইডি। ঠিক যেদিন অনুব্রতকে মণ্ডলকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেয় দিল্লির আদালত, সেদিনই অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে এক বছর আগের একটি ঘটনায় আচমকাই FIR দায়ের করেন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান শিবঠাকুর মণ্ডল। আর তড়িঘড়ি অনুব্রত মণ্ডলকে হেফাজতে নিয়ে নেয় পুলিশ। ফলে তখনকার মতো তাঁর দিল্লি যাত্রা থমকে যায়। তখনই প্রশ্ন উঠেছিল, তাহলে কি অনুব্রতর দিল্লি যাওয়া আটকাতেই সেই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ? অনুব্রত যাতে বীরভূমে পুলিশি হেফাজতে থাকতে পারেন, সেই কারণেই ছক কষা হয়েছিল ?
বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, "নীচের তলার যারা পুলিশ তারা চাইছে এই সরকার চলে যাক। কিন্তু, উপরতলার যে পুলিশরা আছে তারা এখনও ভাবছে তোষামোদ করে রইয়ে যাবে। তারা বুঝতে পারছে না এই অনুব্রত, এই শেখ শাহজাহান এদের হাতটা আপনার বাড়ি অবধি পৌঁছে গেছে।"
বিরোধীরা বলছে, অনুব্রত মণ্ডলকে আড়াল করতে পুলিশ যেমন তৎপর থেকেছে, তেমনই তিনি যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন, তাঁকে আবার তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করেছে।
২০২০ সালে, অনুব্রত মণ্ডলকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে, গ্রেফতার হয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের গুসকরার তৎকালীন তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায়।
অনুব্রত মণ্ডল এতটাই প্রভাবশালী যে, প্রকাশ্য়ে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিতে শোনা গেছে তাঁকে। এখন অনুব্রত মণ্ডলের IC-কে হুমকি দেওয়ার অডিও ভাইরাল হওয়ার পর, সেই সঙ্গীতা চক্রবর্তী মুখ খুলেছেন, যাঁকে গ্রেফতার করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন অনুব্রত মণ্ডল।
মানবাধিকার কর্মী সঙ্গীতা চক্রবর্তী বলেন, "এটাই অনুব্রত মণ্ডল। এই কথাটাই আমি ২০১৭ সাল থেকে একটানা বলে চলেছিলাম। আজকে যেটা ভাইরাল হচ্ছে, তিনি ২ বছর সংশোধনাগারে থেকে এসেও সংশোধন হননি। পুলিশের মা-মেয়েদের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য এবার মনে হচ্ছে সেন্ট্রাল ফোর্সকে ডাকতে হবে।"
এখন প্রশ্ন একটাই, তৃণমূল কি অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে কোনও কড়া ব্য়বস্থা নেবে ? না কি তাঁকে ক্ষমা চাইয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে রেহাই দিল তারা ? পুলিশ কি অনুব্রতকে গ্রেফতার করবে ?