ভাস্কর মুখোপাধ্যায় বীরভূম: স্কুলের মধ্যেই সাপের কামড় খেল পড়ুয়া (Student Snake Bitten)। বীরভূমের (Birbhum) রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবনের ঘটনা। পড়ুয়ার নাম দেবকুমার মাল।
কী জানা গেল?দেবকুমারের বাড়ি রামপুরহাটের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চাকলামাঠ এলাকায়। জানা যাচ্ছে, সোমবার স্কুল চলাকালীন বোতলে পানীয় জল ভরতে গিয়েছিল। তখনই সাপ কামড়ে দেয় তাকে। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে পড়ুয়াকে রামপুরহাট গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কী ধরনের সাপ তাকে কামড়েছিল? বর্ষার সময় সাপের উপদ্রব কমাতে স্কুলের তরফে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া ছিল কি? প্রশ্ন উঠছে। বর্ষার সময় শহর থেকে গ্রাম, দিকে দিকে সাপের উপদ্রব বেশি করে খবরে আসে। সর্পদংশনে মৃত্যুর খবর এখনও বেনজির নয়। তবে এর পিছনে বহুলাংশে কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাসকেই দায়ী মনে করেন অনেকে। গত সেপ্টেম্বরে এমন এক ঘটনার কথা শোনা গিয়েছিল বীরভূমেই।
মৃত যুবককে ১০ ঘণ্টা জলে রেখে দেওয়া হয়...স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে আখের খেতে গিয়েছিলেন সুজন থান্ডার। খেতের পাশে পুকুরের পাড় দিয়ে আসার সময় তাঁকে সাপে কামড়ায়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টিতে গুরুত্ব দেননি তিনি। পরে সন্ধ্যার দিকে সুজন বমি করতে থাকেন। তাঁকে গ্রামের পাশে এক ওঝার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বারবার বমি করতে থাকায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা হয় গ্রামে। পর দিন সকালে বর্ধমান থেকে এক ওঝা আসে। সে 'পরামর্শ' দেয়, মৃতদেহে প্রাণ ফিরবে, যদি তা ১০ ঘণ্টার বেশি জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। এর পরে বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় মাটি খুঁড়ে তৈরি করা হয় ছোট্ট পুকুর। সেখানে পলিথিন রেখে জল ঢেলে সুজনের মাথা বের করে মৃতদেহের বাকি অংশ জলে ডুবিয়ে শুরু হয় ওঝার 'তুকতাক'। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা ধরে চলে মন্ত্রপাঠ। গ্রামের মানুষ এবং মৃতের পরিবার সুজনের দেহে প্রাণ ফিরবে বলে অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু নানুর থানার পুলিশ খবর পেয়ে গ্রামে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রথমে গ্রামের মানুষ পুলিশকে বাধা দিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই ওঝা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে বোলপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠায় ময়নাতদন্তের জন্য। ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায় এলাকায়।
আরও পড়ুন:স্কুল জীবনে বাবার মৃত্যু, সাইকেল সারিয়ে প্রথম আয়! হার না মানা জেদের জোরেই এখন IAS