সন্দীপ সরকার, কলকাতা: ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দুর্গাপুজো। আর এবারই সেই পুজোর আয়োজনকে কেন্দ্র করে  প্রকাশ্যে এল কলকাতায় বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব !অভিযোগ উঠল দলের ভেতরে দুই গোষ্ঠীর অশান্তি নিয়ে। উত্তর কলকাতার একটি পুজোর ‘দখল’ ঘিরে দলেরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ এখন চরমে। সেখানেই শেষ নয়। একেবারে থানার মেন গেটে তালা ঝুলিয়ে চলল বিক্ষোভ । ঘণ্টার পর ঘণ্টা থানার সামনে সোনা গেল হুমকি হুঁশিয়ারি। 

Continues below advertisement

এন্টালি থানা এলাকার ঘটনা। ঘটনার সূত্রপাত কলকাতা পুরসভার পদ্মপুকুর পার্কে দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো ঘিরে। অভিযোগ,পুজোর আয়োজন নিয়ে বিজেপিরই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। গত ১২ অগাস্ট পদ্মপুকুর পার্কে দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো করেন স্থানীয় কিছু মানুষ। এরপর ১৪ অগাস্ট রাতে অভিযোগ ওঠে, কেউ বা কারা, পার্কের ভিতরে ঢুকে সেই খুঁটি উপড়ে দেয়। পার্কের সব গেটে তালা লাগানো হয়। কিন্তু কলকাতা পুরসভার পার্কে দিনের পর দিন তালা ঝুলিয়ে রাখছে কারা? এত সাহস হল কাদের? এই নিয়ে একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে বিজেপির দুই গোষ্ঠী। 

তারপরই এন্টালির বিজেপি নেতা সুদীপ রামের নেতৃত্বে বিক্ষোভ দেখানো হয়। তারপর থানার সামনে গিয়ে গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ, থানার ভেতরে কর্তব্যরত পুলিশদের আটকে বাইরে থেকে হুমকি হুঁশিয়ারি দিতে থাকেন তিনি ও তাঁর দাদা দিলীপ রাম। এই ঘটনার পিছনে বিজেপিরই আরেক গোষ্ঠীর হাত রয়েছে বলে দাবি করে সুদীপ-গোষ্ঠী । তিনি সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি করেন। বিজেপি নেতা দিলীপ রামের দাবি, ' থানায় তালা মারার পর আমি গেছি। কে তালা মেরেছে আমি জানি না। আমি সরকারি আইনজীবী, আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। ' সবমিলিয়ে দুর্গাপুজোর দখলকে কেন্দ্র করে বিজেপির দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ছবি আরও স্পষ্ট হল। 

Continues below advertisement

থানার ভিতরে পুলিশকে আটকে রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কালীঘাট-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। 'থানাকে বন্ধ করে দিল এবং সেই অবস্থায় পুলিশ ভিতরে আটকে রইল, থানার কাজকর্ম আটকে রইল। বাইরে থেকে তাদের সরানো হল না। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এখনও একজনও কেন গ্রেফতার হল না?' 

যে পার্কে পুজো নিয়ে এত কোন্দল , সেই পার্কটি পুরসভার পার্ক। সাধারণ মানুষের সেখানে প্রবেশের অধিকার অবাধ। কিন্তু এখন সব গেটে তালা লাগানো থাকায়, কেউ সেই পার্কে ঢুকতে পারছেন না। এলাকার মানুষও বিরক্ত এই ঘটনায়। এখন দেখার, পুজোর আয়োজন নিয়ে তৈরি এই বিবাদ আগামী দিনে আরও বড় আকার নেয় কি না বা দল তা কীভাবে সমাধান করে।