কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : ভোটের আগে বিজেপিতে ভাঙন। এবার কার্শিয়ঙের বিজেপি বিধায়ক যোগ দিতে চলেছেন তৃণমূলে। আচমকা তৃণমূল ভবনে পৌঁছে গেলেন বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। তৃণমূল সূত্রে খবর, কিছুক্ষণের মধ্যেই ব্রাত্য বসু ও শশী পাঁজার উপস্থিতিতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন।
কার্শিয়াঙে বিজেপির টিকিটে জয়ী বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা দিনকয়েক আগে সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন, আর বিজেপির হয়ে দাঁড়াবেন না। এবিপি আনন্দ-র তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপির সঙ্গে আর সম্পর্ক নেই ? উত্তরে বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেছিলেন, "আমি যখন বিজেপিতে গেলাম, চিঠি দিয়ে গেলাম না। এখনও চিঠি দেওয়ার দরকার আমি মনে করি না। বিজেপির যদি বুকে দম থাকত, আমাকে বের করে দিত পার্টি থেকে। কেন করল না ? বিষ্ণু শর্মা মানে একটা প্রশ্ন। জ্বলন্ত প্রশ্ন বিজেপির জন্য়। প্রশ্নর সামনে বিজেপি দাঁড়াতে পারে না।"
লোকসভা ভোটে দার্জিলিঙে, বিজেপি রাজু বিস্তকে প্রার্থী ঘোষণা করার পরই বিদ্রোহী হয়ে উঠেছিলেন বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। ভূমিপুত্র আর পৃথক রাজ্য, এই দুই আবেগে শান দিয়ে লোকসভার লড়াইয়ে নেমে পড়েন। নির্দল হিসেবে ভোটেও দাঁড়ান। কিন্তু বিজেপি প্রার্থীর কাছেই হেরে যান তিনি।
দিনকয়েক আগে বিধানসভায় এসে সেই তিনিই বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানান। বলেন, "এখানে এসে দেখলাম, মিথ্য়া বেশি চলে। জুমলা পলিটিকস বেশি চলে। জুমলা পলিটিকসের ওপর আমি আর বিশ্বাস করব না।" এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিজেপি জুমলা পলিটিকস করে? উত্তরে কার্শিয়ঙের বিজেপি বিধায়ক বলেছিলেন, "হ্য়াঁ। জুমলা পলিটিকস করে। ইস্তেহারে কী লিখেছিল, কী করল! ওই জুমলা কত বছর ধরে, ৪টে সাংসদ দিয়ে দিলাম। আর জুমলা পলিটিকসের ওপরে বিশ্বাস করি না।"