কলকাতা : "ওপারে ২ কোটি হিন্দু আছে। তাঁরা মার খাবেন, পুড়িয়ে দেবেন যুবক ছেলেগুলোকে, এই টুকু টুকু বাচ্চা, তরতাজা যুবকদের পুড়িয়ে মারবেন, আর এপারের ১০০ কোটি হিন্দু বসে বসে দেখবে, এ জিনিস হতে পারে না।" বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশনে দেখা করে স্পষ্ট জানিয়ে এলেন শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি বিরোধী দলনেতা প্রশ্ন করেন, 'হিন্দু নির্যাতন বন্ধ কবে হবে ?' বাংলাদেশে হিন্দু যুবক খুনের প্রতিবাদে এদিন মিছিল হয় কলকাতায়। দীপুচন্দ্র দাসের ছবি গলায় ঝুলিয়ে মিছিলে শামিল হন বিরোধী দলনেতা। শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে মিছিলে ছিলেন সাধুসন্ত, সনাতনীরা। শুভেন্দু-সহ ৫ জনকে ভিতরে যাওয়ার অনুমতি দেয় বাংলাদেশের ডেপুটি হাই কমিশন। সেখানে ডেপুটেশন দিয়ে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিরোধী দলনেতা।
শুভেন্দু বলেন, "বিভিন্ন হিন্দু সংগঠন, সাধুসন্ত সমাজ, বিজেপির প্রতিনিধিরা, আমরা সবাই চেষ্টা করেছি যে আমাদের আপত্তি-প্রতিবাদ-দাবি ডেপুটি হাই কমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে পৌঁছে দিতে। এরা যেভাবেই হোক আমাদের সোমবার থেকে এড়িয়ে গেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পুলিশকে লেলিয়ে দিয়েছিলেন, এখানে হিন্দুদের ওপর বেপরোয়া লাঠিচার্জ করতে। মঙ্গলবার যে আক্রমণ পুলিশ করেছে, লজ্জা লাগে...মোল্লা ইউনূসের পুলিশ যা, মমতার পুলিশও তাই। ১০ জনের বেশি আহত হয়েছে। নাক ভেঙেছেন। সাধুকে মেরেছে। ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। ৭ জন মহিলা আগে জামিন পেয়েছিলেন। আজ ১২ জনকে কোর্টে তোলা হয়েছে। ফলাফল, এখনও আমি পাইনি। আমরা ডেপুটি হাই কমিশনারকে বলেছিলাম, আজ যদি মিট করবেন ভাল, না মিট করলে ১০ হাজার লোক নিয়ে এসে বসব। যাইহোক তাঁরা বলছেন, আমাদের সরকার ছাড়পত্র দিয়েছে আপনার সঙ্গে কথা বলার জন্য। বা, ভয় পেয়েছে। যাইহোক হবে। ইতিমধ্যে বর্ডায় এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা আজ এখানে জানতে এসেছিলাম, দীপুচন্দ্র দাসের অপরাধ কী ? দেখাতে পারেনি, বলতে পারেননি। দীপুচন্দ্র দাস...ফেসবুক তো দূরের কথা, হোয়াটসঅ্যাপ তো দূরের কথা। আড়াইশো টাকার ছোট মোবাইল ব্যবহার করতেন। সম্পূর্ণভাবে ধর্মীয় স্লোগান দিয়ে বাংলাদেশকে হিন্দু শূন্য করার জন্য তাঁকে মেরেছে এবং পুলিশের হেফাজত থেকে ওই জেহাদি জঙ্গিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আধমরা করে পুড়িয়ে দিয়েছে। ওঁরা বললেন, ১০ জনকে গ্রেফতার করেছি। আমাদের মহারাজরা বলেছেন, তাহলে জামিন পেয়ে যাবেন। ওঁরা বললেন, বিচার না হওয়া পর্যন্ত জামিন পাবেন না। আপনাদের আমরা আশ্বস্ত করছি। দ্বিতীয় আমরা বলেছি, মৃত্যুর কোনও ক্ষতিপূরণ হয় না। আপনারা ক্ষতিপূরণ কী করছেন ? বললেন, রাষ্ট্র দায়িত্ব নিয়েছে ওঁর পরিবারের। কী দায়িত্ব নিয়েছেন জনসমক্ষে জানান। আমরা পরিষ্কার বলেছি, হিন্দু নির্যাতন বন্ধ কবে হবে ? চিন্ময় প্রভুকে কোন অপরাধে দেড় বছর জেলে রেখেছেন ? ওঁদের লিমিটেশন আছে...ডেপুটি হাই কমিশনার কতটা উত্তর দেবেন। তবুও অনেকগুলো কথার উত্তর দিতে পারেননি। সাধুসমাজও বলেছে, এটা বন্ধ না হলে আমরা রিঅ্যাক্ট করব। আমি প্রশ্ন করেছি, আগে রোহিঙ্গা মুসলমানদের কক্সবাজারে থাকতে দিয়েছিলেন কেন ? মুসলমান বলে। তাহলে ওপারে ২ কোটি হিন্দু আছে। তাঁরা মার খাবেন, পুড়িয়ে দেবেন যুবক ছেলেগুলোকে, এই টুকু টুকু বাচ্চা, তরতাজা যুবকদের পুড়িয়ে মারবেন, আর এপারের ১০০ কোটি হিন্দু বসে বসে দেখবে, এ জিনিস হতে পারে না।