কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতিতে বারবার উত্তর বনাম দক্ষিণ ইস্যু উঠেছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের বরাবরের অভিযোগ থাকে যে তাঁরা বিভিন্ন বিষয়ে বঞ্চনার শিকার হন। যদিও সেই দুর্দিন বোধহয় এবার ঘুচে যেতে চলেছে। বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকার গঠন আগেই হয়ে গিয়েছিল। আর রাজ্যমন্ত্রীসভার সম্প্রসারণে এবার উত্তরবঙ্গ থেকে মন্ত্রী হলেন আরও ১০ জন। এঁদের মধ্য়ে উল্লেখযোগ্য নাম অবশ্য়ই শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ। 

Continues below advertisement

২০২১ এর পর ২০২৬ টানা দু'বারই রেকর্ড মার্জিনে শিলিগুড়ি কেন্দ্র থেকে ভোটে জিতেছিলেন। আর এবার পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শঙ্কর ঘোষ বলছেন, 'মন্ত্রী আমি হইনি, মন্ত্রী হয়েছেন যে মানুষরা আমাদের ওপর প্রত্যাশা রেখে আমাদেরকে সরকার গড়ার সুযোগ দিয়েছিলেন। জনাদেশ দিয়েছিলেন, মন্ত্রী তাঁরাই হয়েছেন। আমাদের মূল কাজ হল,মূল ভূমিকা হল মানুষের প্রত্যাশাগুলো বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে নিয়ে আসা। এক্ষেত্রে আমি বলব, বিজেপির যে সংকল্পপত্র, যা অমিত শাহ মহাশয় প্রকাশ করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি মহাশয় যে বিকশিত ভারত, বিকশিত পশ্চিমবঙ্গের যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবের মাটিতে নামিয়ে নিয়ে আসাই লক্ষ্য। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শ্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় ও রাজ্য সভাপতি শ্রী শমিক ভট্টাচার্যের নির্দেশিত পথেই আমরা কাজ করব।'

শিলিগুড়ির ঘরের ছেলে শঙ্কর ঘোষ কি তাঁর শহরের উন্নতির স্বার্থে কোন কোন বিষয়ে জোর দেবেন? শঙ্কর ঘোষ বলছেন, 'আমি উত্তরের ছেলে। ওখানকার জল ও হাওয়ায় আমি বেড়ে উঠেছি। তাই উত্তরবঙ্গের মাটি ও শিলিগুড়ি, যে শহর আমাকে বড় করেছে। তাই শিলিগুড়ি নিয়ে সেখানকার মানুষদের নিয়ে আমার অবশ্যই ভাবনা চিন্তা রয়েছে। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গে উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী আছেন শ্রী নিশীথ প্রামানিক মহাশয়। আমি আমার ভাবনা চিন্তা নিঃসন্দেহে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করব। তিনি এই মুহূর্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। তাই আমার এই বিষয়ে বলা এখন সাধে না।'

Continues below advertisement

তিনি আরও বলেন, 'শিলিগুড়ি শহরের কিছু নির্দিষ্ট সমস্যা রয়েছে। সেখানকার ট্রাফিক জ্যামের সমস্যা, পানীয় জলের সমস্যা, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার সমস্য়া। কলোনি অঞ্চলের আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে কাজ করতে চাই। এছাড়া নারী সুরক্ষা, চাকরির সুযোগ তৈরি করা, আইনশৃঙ্খলা এই বিষয়গুলোর ওপরে কাজ করব। আমাদের উত্তরবঙ্গের আড়াই কোটি ও উত্তর পূর্ব ভারতের সারে চার কোটি। এই সাত কোটি মানুষের প্রত্যাশা পূরণের কেন্দ্র হিসেবে শিলিগুড়ি শহরকে গড়ে তোলা হবে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের যে স্বাদ, সেই স্বাদ শিলিগুড়ি সহ পশ্চিমবঙ্গের মানুষও পাবেন।''

'রাজনীতিতে একটা কথা বলা হয়, দল ও জনগণ হল মাছ ও জলের সম্পর্কের মত। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের অভিভাবকত্বেই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশিত পথেই এগোনোর চেষ্টা করব।'