সমীরণ পাল ও ভাস্কর মুখোপাধ্যায় : ভাইপোর বাড়ি থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ইস্যুতে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়ক কাজল শেখকে তীব্র আক্রমণ করলেন অর্জুন সিং। কাজলকে এখনই গ্রেফতার করা উচিত বলে দাবি করলেন তিনি। যদিও তাঁর পাল্টা কোনও মন্তব্য করতে চাননি কাজল শেখ। কাজল শেখের বাড়িতে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। বললেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Continues below advertisement

বৃহস্পতিবার বীরভূমের নানুরে, কাজল শেখের গ্রাম পাপুড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তাঁর ভাইপো-র বাড়ি থেকে একটি সেভেন এমএম পিস্তল এবং ৭ রাউন্ড গুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। কাজল শেখের আরেক ভাইপো জাহাঙ্গির শেখের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়। এই প্রেক্ষাপটেই কাজল শেখকে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। তাঁর গ্রেফতারিরও দাবি তুললেন পরিবহণমন্ত্রী। তিনি বললেন, "কাজল শেখের মতো অনেক শেখ আছেন, এই ধরনের কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন, অনেক দেরি হচ্ছে, এদের আগে তুলে নেওয়া দরকার। কাজল শেখ, যে অস্ত্র ওঁর ভাইপোর কাছ থেকে ধরা পড়েছে, সেই অস্ত্রের আসল মালিক কাজল শেখ, এখনই কাজল শেখকে গ্রেফতার করা উচিত, কাজল শেখ কত লোককে মেরেছে, কত লোককে খুন করেছে।"

বুধবার বিধানসভায় গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কাজল শেখকে মিষ্টিমুখ করিয়েছিলেন মমতা তৃণমূলের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। সূত্রের খবর, বিধানসভার লবিতে সেই কাজল শেখকেই মিষ্টি খাইয়ে দেন তিনি। এরপর বৃহস্পতিবারই গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কাজল শেখের দুই নিরাপত্তারক্ষীকে তুলে নেয় পুলিশ। এর মধ্য়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেত্রী বলে দাবি করেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়ক। তিনি বলেন, "আমার নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ছিলেন, আছেন, থাকবেন।"

Continues below advertisement

এই আবহে তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন বিজেপি বিধায়ক ও পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং। কাজল শেখের মতো সুর বদলে মমতা-তৃণমূলের দিকে ঝোঁকার ইঙ্গিত দিয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের আরেক বিধায়ক হামিদুল রহমানও। এরপর বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জে গিয়ে চোপড়ার বিধায়ককে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্য়মন্ত্রী। তিনি বলেন, "চোপড়া, ইসলামপুর, গোয়ালপুকুর, চাকুলিয়া সহ চা বাগানে যত জমি জোর করে বেদখল করেছে, সব উদ্ধার করতে হবে। আমি SP ইসলামপুর, DIG AIG কে বলে গেলাম, চোপড়ার কুখ্য়াত গুন্ডা মাফিয়া বিধায়ক তাঁর বিরুদ্ধে যত মামলা আছে, পুনরায় (রিওপেন) খুলুন এবং যত জমি লুঠ করেছে এরা সব জমি উদ্ধার করবেন। সব গুলিকে ওই চোর ইন্দ্রনীল সেনের মতো জেলে ঢোকানোর কাজ করব।"

পাল্টা মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, "কাজল শেখের বাড়িতে তাণ্ডব শুরু হয়েছে। তাঁর গ্রামে শ'য়ে শ'য়ে পুলিশ তাণ্ডব করা হচ্ছে। গায়ে জ্বালা তো হওয়া উচিত ঋতব্রতর। জ্বালাটা শুভেন্দু অধিকারীর হচ্ছে কেন? কাজল শেখ বলছেন, মমতা ব্য়ানার্জি আমার নেত্রী। হামিদুলবাবু বলছেন, মমতা ব্য়ানার্জি আমার নেত্রী। চাটন শিবিরের গায়ে লাগা উচিত। গায়ে লাগছে শুভেন্দু অধিকারীর। এরা কার বি-টিম?" পাল্টা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "চরম ঔদ্ধত্য। ঔদ্ধত্যের কোথাও কোনও ছেদ পড়েনি। ঔদ্ধত্য আরও বেড়ে গেছে।" 

এনিয়ে প্রতিক্রিয়ার জন্য় ফোন করা হলে কাজল শেখ জানান, তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।