কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকাকে 'ধর্ষণ করে খুন' এর ঘটনায় ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দোষীদের কঠোর শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার এই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন এবার অভয়ার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ।
আরও পড়ুন, রাজ্যে এসেই ইকো পার্কে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তির কাজের সূচনা অমিত শাহের, গেলেন ভবানীপুরের বাড়িতেও
RG Kar কাণ্ডে নিজের মেয়েকে হারিয়েছিলেন, বারুইপুরের ঘটনায় কী বললেন অভয়ার মা ?
আরজিকরে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় নিজের মেয়েকে হারিয়েছিলেন রত্না দেবনাথ। এবার বারুইপুরের ঘটনায় মুখ খুললেন তিনি। বললেন, খুবই খারাপ লাগার একটা অনুভূতি , মানে কী বলব, মানুষ অনুভূতি হারিয়ে ফেলেছে। চেতনার বিকাশ হচ্ছে না। মানুষ এত নীচের দিকে, একজন কিশোরী বলতে পারি আমরা, তার সঙ্গে এইরকম ঘটনা, এটা বেদনাদায়ক খুবই। আমাদের সরকার, যিনি মাত্র দুই মাস এসেছেন, আমি বলব এগুলি শক্তহাতে দমন করতে। ..কেন হবে ? এরকম সব অপরাধি যারা ধরা পড়বে, বিচার হবে, পুলিশ ঠিক করে তদন্তভার বহন করবে। যিনি এর আগে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়- পূর্বতন সরকার), তাঁর আমলে যে দুর্নীতি হয়েছে, এটা তারই ফল।'
ঠিক কী হয়েছিল ?
বন্ধুর জন্মদিনে যাচ্ছিল ক্লাস সিক্সের মেয়েটা, কিন্তু, সেই আনন্দের মুহূর্ত যে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনায় বদলে যাবে কে জানত। ১২ বছরের নাবালিকাকে যৌন নির্যাতন ও খুনের অভিযোগে, রবিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর। সেই ঘটনায়, মূল অভিযুক্ত, আনন্দ সর্দারকে সোমবার বারুইপুর বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই নিয়ে ধৃতের সংখ্য়া বেড়ে হল ৩। রবিবার রাতেই প্রভাস মণ্ডল নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার সকালে গ্রেফতার করা হয় দিবাকর সর্দার নামে আরও একজনকে। পাশাপাশি ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।ঘটনার সূত্রপাত শনিবার বিকেলে। নিহতের পরিবারের দাবি, জন্মদিন উপলক্ষ্যে এক বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বেরোয় নাবালিকা।
সিসিটিভি ফুটেজে যে ছবি উঠে এল..
অভিযোগ, এর পর আর তার কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে, ক্লাস সিক্সের এই ছাত্রীর সঙ্গে এলাকারই কয়েকজন যুবককে দেখতে পান নাবালিকার পরিবার ও স্থানীয়রা। একজনকে ধরেও ফেলেন। অভিযোগ, তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নাবালিকার মৃতদেহের খোঁজ মেলে। রবিবার সকালে বাড়ির অদূরে পুকুর থেকে উদ্ধার হয় ছাত্রীর বস্তাবন্দি দেহ। এরপরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নাবালিকার দেহ রাস্তায় রেখে শুরু হয় বিক্ষোভ। অভিযুক্ত সন্দেহে গণপিটুনিতে মৃত্য়ু হয় এক যুবকের। অভিযোগ, পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট, কাচের বোতল ছোড়া হয়। আহত হন একাধিক পুলিশকর্মী।এরপরই এলাকা ঘিরে ফেলে বিশাল পুলিশ ফোর্স ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনায় ৬ সদস্যের SIT গঠন করা হয়। বারুইপুর,নরেন্দ্রপুর, সোনারপুর ৩ থানা এলাকায় জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
