কলকাতা : "অগ্নিকন্যা থেকে ঘুগনিকন্যা হতে মাত্র ১৫টা বছর লেগেছে। ঘৃণার পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পরিবার। নিশ্চিত থাকুন, লক্ষ্য মাথা।" কারও নাম না করে দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ (BJP MLA Sajal Ghosh)। গতকাল 'ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন' অনুষ্ঠানে যোগ দেন তিনি। তাঁকে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ও এবিপি আনন্দ-র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দে (ABP Ananda Executive Vice Presient Suman De) প্রশ্ন করেন, মুর্শিদাবাদের কান্দিতে, কলকাতা পুলিশের গ্রেফতার হওয়া DCP শান্তনু সিন্হা বিশ্বাসের বাড়িতে দরজা ভেঙে ঢুকলেন ED আধিকারিকরা। দুর্নীতির মাথা পর্যন্ত এই অভিযানগুলো পৌঁছবে তো? 

Continues below advertisement

এর উত্তরে সজল ঘোষ বলেন, "মই যেমন একটা একটা করে নীচের সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে হয়...জানবেন এখন মই বেয়ে ওপরে ওঠা শুরু হয়েছে। লক্ষ্য মাথা-ই। এসব শান্তনু...এদের নিয়ে আমাদের কোনও লক্ষ্য নেই। কারণ, এরা হচ্ছে দাবার বোড়ে। এই শান্তনু সিনহা বিশ্বাস, এ যে কোনও লোককেই তৈরি করে দেওয়া যায়, যদি সরকার মনে করে। এরা হচ্ছে পেপার-টাইগার, যাকে খুশি বানিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু, সেটা নয়। যে বানিয়েছেন তাঁদের মুক্তি নেই।" 

Continues below advertisement

এরপর আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, "২১ সালে তো আমরা হেরেছিলাম। আজ যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়...যুবরাজ। সেনাপতি, কার্তিক ঠাকুর। যেখানেই যে নামেই ডাকুন। ঠিক এই জায়গায় পাঁচ বছর আগে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষরা। তাঁরা তো ঘরে ঢুকে থাকেননি। তাঁদের দরজায় কেউ বোমা মারতে পারে, কেউ ইট মারতে পারে...কেউ তাঁদের দরজায় দাঁড়িয়ে মা-বোন তুলে গালি দেয়নি। কেউ তাঁদের দরজায় দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে দিয়ে আসেনি। এটা হচ্ছে মানুষের জাতীয় ঘৃণাস্থল হয়ে উঠেছে।" 

তাঁর সংযোজন, "এই জায়গাটায় বাংলার মানুষকে নিয়ে এসেছেন যিনি...উল্টোদিকে যদি ভাবেন...আজ থেকে ১১ বছর আগে...তিনিই ছিলেন বাংলার মানুষের মনের মণিকোঠায়। অগ্নিকন্যা থেকে ঘুগনিকন্যা হতে মাত্র ১৫টা বছর লেগেছে। কিন্তু, ঘৃণার পরিবার হয়ে দাঁড়িয়েছে এই পরিবার। নিশ্চিত থাকুন, লক্ষ্য মাথা। আর কোনও ডানদিক-বাঁদিক, কাঁধ-গলা ওসব কিছু লক্ষ্যই নয়। আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন। পৌঁছাবেই। এবং, আদি-অনন্তকাল নয়। ২০২৬ সালের মধ্যেই...যা স্পিড দেখছি...ঢুকে যাবে মনে হয় জায়গামতো।" প্রসঙ্গত, এবার বরানগর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছেন সজল।