শিবাশিস মৌলিক, সন্দীপ সরকার ও সৌরভ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা: শনিবারের পর রবিবার। ফের একবার নাম না করে সিন্ডিকেট ও তোলাবাজির বিরুদ্ধে দলীয় কর্মীদের একাংশকে বার্তা দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। হুঁশিয়ারি দিলেন এসব করলে পার্টি রেয়াত করবে না। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে কেন রাজ্য বিজেপির সভাপতিকে বারবার একই বার্তা দিতে হচ্ছে? এ নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরা। 

Continues below advertisement

আরও পড়ুন, আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তির মাঝেই প্রবল বর্ষণের পূর্বাভাস রাজ্যজুড়ে, ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া, কী বলছে IMD ?

Continues below advertisement

পর্যবেক্ষকদের মতে, এসবের লাগামছাড়া বাড়বাড়ন্ত থেকে মুক্তি পেতেই রাজ্য়ে পরিবর্তন করেছে পশ্চিমবঙ্গবাসী। কিন্তু, বিজেপি সরকার আসার পরেও কি সেই ছবিটা পাল্টায়নি? প্রশ্নটা উঠছে, কারণ এনিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের উদ্দেশে ফের সতর্কবার্তা দিতে শোনা গেল খোদ বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে। বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য সভাপতি  শমীক ভট্টাচার্য বলেন, সে পুলিশই হোক, আর সে বিজেপির কোনও নেতাই হোক, কাউকে প্রোটেকশন দিতে গেলে আর মিউনিসিপ্যালিটি অফিসে যাতায়াত বাড়িয়ে দিলে পার্টি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। যা করবে সরকার করবে। এটা প্রথমবার নয়। শনিবারও এক অনুষ্ঠান থেকেও তাঁর গলায় শোনা গেছিল কার্যত একই সুর।   

 শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এখন যে কোনও জায়গায় কোম্পানি খুলতে গেলে আপনি নিজেই নিজের ইট কিনতে পারবেন। সিমেন্ট কিনতে পারবেন। বালি কিনতে পারবেন। কেউ যদি যায়, ফোন করার ব্যবস্থা আছে, ফোন করবেন। দেখবেন হয় সে সেখান থেকে চলে গেছে। নাহলে লকআপের ভিতরে ঢুকে গেছে। এই ব্যবস্থা আমরা অন্তত করতে পেরেছি। যদি সর্বত্র করতে পারা গেছে, একথা বললে মিথ্যাচার করা হবে। 'এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলের প্রশ্ন, তাহলে কি শমীক ভট্টাচার্য ঘুরিয়ে মেনে নিচ্ছেন, যে সিন্ডিকেট, তোলাবাজি, এসব এখনও বন্ধ হয়নি?('কালীঘাট-তৃণমূল') বেলেঘাটা  বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতি। একটা দলের রাজ্য সভাপতিকে দলটা ২ মাস হয়েছে সরকারে এসেছে, বলতে হচ্ছে এইভাবে তোলাবাজি চলবে না। প্রমাণিত হয়ে যাচ্ছে এই তোলাবাজি বলুন, এই ধরনের ভাইরাসে এই ২ মাসের সরকারের নেতৃত্বাধীন বিজেপিটাও ভরপুর আক্রান্ত। 

 রাজনৈতিক পালাবদলের পর, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার দিকে ডিম ছোড়ার ঘটনা দেখা গেছে। সেকথা মনে করিয়েও সতর্ক করে দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য় সভাপতি। শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এই অত্যাচার ভুলে যাবেন না। এই অত্যাচারীদের যদি ভুলে যান, তাহলে ডিম, ডিম যেদিকে পড়ছে, সেটা অন্যদিকে ঘুরতে কিন্তু বেশি সময় লাগবে না। ('কালীঘাট-তৃণমূল') শ্রীরামপুর সাংসদ বলেন, উনি ডিম থেরাপির বিরুদ্ধে বলেন, ওনার মুখ্যমন্ত্রী ডিম থেরাপির হয়ে বলেন। ওনাদের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ডিম থেরাপির পক্ষে বলেন। কেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালকে বহিষ্কার করলেন না। ওনার হিম্মত আছে?  সম্প্রতি তৃণমূলের তিনজন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের হাত ধরে বিজেপিতে যোগ দেন। এদিন সেই প্রসঙ্গেও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেন শমীক ভট্টাচার্য।যার জেরে প্রশ্ন উঠেছিল, বিজেপির তৃণমূলীকরণ শুরু হয়ে গেল কিনা? এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূল ছেড়ে আসাদের দলে নেওয়া নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য় করেছেন তিনি।বিজেপি সাংসদ ও রাজ্য সভাপতি  শমীক ভট্টাচার্য বলেন , আমি কয়েকজনের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলাম। আমাকে কেউ কেউ তাতে এত ক্ষুব্ধ হয়েছেন মানে তৃণমূলের ওপরে ঘৃণা কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, আগের দিন পর্যন্ত আমাদের সুখ্যাতি করছিলেন, পরের দিন আমার গলায় জুতোর মালা পরিয়ে দিয়ে, কিন্তু এই ধরনের কাজের মধ্যেও নিপুণতা চাই। জুতোগুলো সব দেখলাম সব নতুন। সব মিলিয়ে রাজ্য়ে নতুন সরকার আসার পরও পুরনো ইস্য়ুতে চাপানউতোর চলছেই।