কলকাতা: শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গী মাখনলাল সরকারকে শপথ মঞ্চে সম্বর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর। এবিপি আনন্দর মুখোমুখি হয়ে এক্সক্লিউসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন বর্ষীয়াণ নেতা। শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার বিজেপির সর্বপ্রথম জেলা সভাপতি এই মাখন লাল সরকার। তিনি বলেন, 'এমার্জেন্সি আমার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেছিল সেই সময়ের সরকার। চার ঘণ্টা পরে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ক্ষমা চেয়েছিলেন। সবাই আমাদের নেতাদের অ্য়ারেস্ট করেছিল রাত ১২টার সময়। আমি রেডিও তখনও খুলিনি, কিছুই জানতাম না। আমি তখন বাজার করতে গিয়েছিলাম। দুটো পুলিশকে পাঠানো হয়েছিল আমাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য। আইসি জানিয়েছিলেন যে আমাকে উনি ডেকে পাঠিয়েছেন। আমি বলেছিলাম যে বাজার করে গিয়ে দেখা করব। কিন্তু এরমধ্য়েই আমার নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করে দিয়েছিল।'

Continues below advertisement

বর্ষীয়ান এই নেতা আরও বলেন, 'আমি দোকান থেকে পান নিয়ে বাড়ির দিকে এগোচ্ছিলাম, তখন সাদা পোশাকের পুলিশ আমাকে নিতে চলে এসেছিল। আমি যখন থানায় ঢুকছি, তখন আমাকে দেখে অনেকেই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। শিলিগুড়ির মার্কেটে তখন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। আচমকাই সবাই দোকানের শাটার নামিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা সবাই বলেছিলেন যে মাখনলাল সরকারের গ্রেফতারির বিরুদ্ধে দোকান বন্ধ করলাম। খবর দ্রুত পৌঁছে গিয়েছিল কলকাতায়। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় ছিলেন। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করেছিলেন আইসিকে।'

ভারতীয় জনতা পার্টি যে মাখনলাল সরকারের মত প্রবীণ নেতাকে মনে রেখেছে, এতেই খুশি তাঁর স্ত্রী পুতুল সরকার। যিনি সম্পর্কে মাখনলাল সরকারের স্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর থেকে যে সম্মান পেয়েছেন মাখনলাল, তাতে গর্বে বুক ফুলে গিয়েছে তাঁর। তিনি বললেন, '১৬ বছর থেকে আরএসএস করতেন উনি। আমি কখনও কিছু বলিনি।" একইসঙ্গে মাখনলালের ছেলে মানিকলাল সরকারও খুব খুশি। মানিকলাল বলেন, "বাবা যে সম্মান পেয়েছেন তাতে আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি আমার বাবাকে ভুলে যাননি। আমার বাবাও খুব খুশি, এই বয়সে তাঁকে মঞ্চে নিয়ে গিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাখনলাল সরকারের পুত্রবধু মিনু সরকারও খুব খুশি। তিনি বলছেন, "আজকের দিনটা খুবই সুন্দর। এই অনুভূতি কাউকে বলার মতো নয়।"

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, এদিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মন্ত্রীসভায় পাঁচজন সদস্য হিসেবে দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, নীতীশ প্রামাণিক ও অশোক কীর্তনীয়া।