দীপক ঘোষ : তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কয়েকদিন আগেই। এবার রাজনৈতিক পথ কী হবে মানস ভুঁইয়ার ? এই নিয়ে নানান বিশ্লেষণের মধ্যেই, ফের শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা শোনা গেছে মানস ভুঁইয়ার গলায়। 

Continues below advertisement

তৃণমূলের সঙ্গে প্রায় এক দশকের সফর। গত শনিবার সেই সফর শেষ করেছেন মানস ভুঁইয়া। তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক জানিয়েছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন সমাজসেবা, রাজনীতির মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে থাকবেন তিনি। এরপর প্রশ্ন, তাহলে মানস ভুঁইয়ার রাজনৈতিক জীবন এবার কোন পথে চলবে ? বিজেপি না পুরনো দল কংগ্রেস ?

প্রাক্তন মন্ত্রী ও দলত্যাগী তৃণমূল নেতা মানস ভুঁইয়া বলেছেন, "কংগ্রেস আমাকে বিতাড়িত করেছে। সেই সাসপেনশন এখনও উইথড্র করেনি।" এবিপি আনন্দর তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, তাহলে আর যাচ্ছেন না ? উত্তরে মানস ভুঁইয়া বলেন, 'রাজনীতিতে অসম্ভব বলে কিছু হয় না।'

Continues below advertisement

তবে তৃণমূলের পরাজয়ের পর থেকেই, অত্য়ন্ত ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মানস ভুঁইয়ার গলায় বারবার শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা। তিনি বলেছেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, তিনি আমার জেলার ছেলে। আমি তাঁর প্রশংসা করে শুভেচ্ছা দিয়েছিলাম বলে, আমার দল বাঘের মতো আমার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল এবং কথা বন্ধ করে দিল। মিটিংয়ে ডাকা বন্ধ করে দিল। আমি ভাবতেও পারি না, রাজনীতিতে সৌজন্য বলে কি কিছু থাকবে না ? আমাকে শুভেন্দুবাবু যদি ডেকে বলেন, ডক্টর ভুঁইয়া... আপনি কাজ করবেন ? আমি বলব হ্যাঁ।" যদিও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার বলেছেন, "যতই প্রশংসা করুন, অত সহজে বিজেপিতে ঢুকতে পারবেন না, চিন্তা নেই।"

মানস ভুঁইয়ার দল পাল্টানোর ইতিহাস দীর্ঘ। যখন যেদিকে তখন তাঁর প্রশংসা। আবার দল পাল্টালেই পুরনো দলের নিন্দা। আর এখন তৃণমূল ছাড়ার পর, সেই মানস ভুঁইয়ার গলাতেই শোনা যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসা।

সবংয়ের ৮ বারের বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। কংগ্রেসের প্রাক্তন পরিষদীয় দলনেতা, অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির সদস্য, তারপর কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেন তিনি। তৃণমূলে যোগ দিয়ে হন রাজ্যসভার সদস্য। তারপর বিধায়ক... এরপর মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মন্ত্রিসভার মন্ত্রী। এবারের বিধানসভা ভোটে তিনি নিজে হেরে যান। তৃণমূলেরও ভরাডুবি হয়। এরপরই তৃণমূলের প্রাথমিক সদস্যপদে ইস্তফা দেন মানস ভুঁইয়া। শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর গলায়।