কলকাতা: আসন্ন নির্বাচন ঘিরে যুযুধান তৃণমূল (TMC) ও বিজেপি (BJP) দুই শিবির। কেউ কাউকে এক চিলতে জমি ছাড়তে নারাজ। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Assembly Election) ঘিরে রাজনীতির উত্তাপ ক্রমে চড়ছে। আর এর মধ্যেই রবিবার থেকে শুরু হবে বিজেপির 'পরিবর্তন রথ যাত্রা'। শুক্রবার এই 'পরিবর্তন যাত্রা'-র টিজার লঞ্চ (Teaser Launch) করল বিজেপি। টিজারটি বিজেপি বেঙ্গল-এর ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে এবং সমাজমাধ্যমেও আপলোড করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে যে 'পরিবর্তন যাত্রা' চলবে বেশ কিছুদিন ধরে।  

Continues below advertisement

ভোটের মুখে বিজেপির 'পরিবর্তন যাত্রা'-র (Parivartan Yatra) টিজার লঞ্চ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya), রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)-সহ আরও অনেকে। টিজার লঞ্চের পাশাপাশি আজ 'পরিবর্তন যাত্রা'-র বুকলেটও প্রকাশ করেছে বিজেপি। 

বিজেপির আজকের এই অনুষ্ঠানে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "দীর্ঘ ৩৪ বছরের নিরবিচ্ছিন্ন বাম শাসনের পর ২০১১ সালে একটি তথাকথিত পালাবদল হল। লক্ষ্য ছিল একটাই, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। মানুষ সরকারের সমালোচনা করতে পারবে, নিজের মতামতকে প্রকাশ্যে যে কোনও সামাজিক স্তরে তুলে ধরতে পারবে। নির্ভয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করতে পারবে। মধ্যমেধার চাষ বন্ধ হবে, কোনও প্রতিবাদকে বাজেয়াপ্ত করা হবে না। কিন্তু ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের অভিজ্ঞতা কী হল? একটা একদলীয় একাধিপত্যের পরিবর্তে আর একটা হেজিমনি গ্রাস করল পশ্চিমবঙ্গকে। যে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্লোগান দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতার পট পরিবর্তন করেছিলেন, ক্ষমতায় আসার পাঁচ বছর পর থেকে আজ সেই ন্যারেটিভ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ল।" 

Continues below advertisement

"এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে কোনও সরকার নেই। সরকারের নামে যা আছে তা জীবন্ত জীবাশ্ম। তৃণমূল কংগ্রেস চলে গেছে, তৃণমূল কংগ্রেস চলে যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেস চলে যাবেই", আক্রমণাত্মক সুরে বলেন শমীক ভট্টচার্য। তিনি আরও বলেন, "এই লড়াই শুধুমাত্র বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই নয়, এই লড়াই সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই। এটি প্রকৃতির সঙ্গে তৃণমূলের লড়াই"। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, "দুর্নীতি এবং তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত সমার্থক শব্দ হয়ে গেছে।" 

এসআইআর (SIR) আবহে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে। অ-বিজেপিশাসিত কেরল এবং তামিলনাড়ু এসআইআর সম্পূর্ণ করেছে। কিন্তু এরাজ্যে সাংবিধানিক সংস্থাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে মানুষের মৌলিক অধিকারগুলিকে পদদলিত করে দেওয়া হচ্ছে।" তিনি যোগ করেন, "১ মার্চ থেকে আমাদের পরিবর্তন যাত্রা শুরু হচ্ছে। ১ মার্চ ৪টি বড় জনসভা ও ২ মার্চ ৫টি বড় জনসভার মধ্যে দিয়ে পরিবর্তন যাত্রার সূত্রপাত। দোলের জন্য ৩ ও ৪ মার্চ যাত্রা বন্ধ থাকবে। ৫ মার্চ ৯টি জায়গা থেকে যাত্রা শুরু হয়ে ১০ তারিখ কলকাতায় (Kolkata) এসে শেষ হবে। এই যাত্রা চলাকালীন ৬৪টি বড় জনসভা হবে, ৩০০-র বেশি রিসেপশন (ছোট ছোট সভা) এবং এর বাইরেও ২৫০টি জায়গায় রিসেপশন হবে। ২৫০টি বিধানসভা ক্ষেত্রের ওপর দিয়ে এই যাত্রা চলবে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা দিয়ে এই যাত্রা শেষ হবে।" 

শমীক ভট্টাচার্য জানান, "বৃহত্তর কলকাতার ২৯টি বিধানসভা ক্ষেত্রে প্রতিটি জায়গায় ট্যাবলো বের হবে, ব্রিগেড চলো অভিযানের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পথসভা হবে এবং যাত্রা বেরিয়ে যাওয়ার পরও ধারাবাহিকভাবে পথসভা চলবে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ, যে কোনও রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী মানুষের আমাদের এই যাত্রায় অংশগ্রহণ - আমাদের সার্বিক লক্ষ্য। কারণ এটি পশ্চিমবঙ্গের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।" তিনি যোগ করেন, "এমনকি যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসে অংশগ্রহণ করে ঘামরক্ত ঝরিয়ে দেওয়ালে ঘাসফুল চিহ্ন এঁকেছিলেন, যাঁরা দীর্ঘ ১৫ বছরে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার অমৃত রস পান করেননি, তাঁরাও এই পরিবর্তনে আসুন।" একইসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের 'গভীর অসুখ' সারানোর লক্ষ্যে তিনি কংগ্রেস ও বামপন্থী কর্মীদেরও এই যাত্রায় যোগদানের জন্য আহ্বান করেন।