কলকাতা : গ্রেফতার হতেই স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বিস্ফোরণ। যাঁর অঙ্গুলিহেলনে এতদিন চলত টালিগঞ্জের স্টুডিওপাড়া, সেই স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হতেই একে একে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ, তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসকে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনেও মামলা দায়ের হয়েছে। প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার আক্রমণ শানালেন সুকান্ত মজুমদার, লকেট চট্টোপাধ্যায়রা।

Continues below advertisement

লকেট বলেন, "স্বরূপ বিশ্বাস, অরূপ বিশ্বাস দু'জনে মিলে যেভাবে ইন্ডাস্ট্রিকে বরবাদ করে দিয়েছেন, ১২ বছর আগের থেকে, আজ ২০২৬...শেষ করে দিয়েছে। ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। শুধু স্বরূপ বিশ্বাস একা নন। স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে আরও অনেক লোক আছেন। যারা তাঁকে পাত্তা দিতেন। তাঁর সঙ্গে হ্যাঁ-তে হ্যাঁ মেলাতেন, না-তে না মেলাতেন। এরজন্য প্রচু টেকনিসিয়ান, প্রচুর আর্টিস্টের পেটের ভাত চলে গেছে। আমার মনে হয়, তাঁদেরও শাস্তি হওয়া উচিত। তাঁর বড় ভাই তো ওয়েট করে আছেন, বড় রাঘববোয়াল যারা আছেন, একজন বড় ভাই রয়েছেন। আমরা অপেক্ষায় আছি, কখন সেই রাঘববোয়াল অ্যারেস্ট হন। লজ্জার কথা। আমরা টালিগঞ্জে এরকম কখনও দেখিনি...এই পরিস্থিতি হতে পারে। যা দৃশ্য দেখিছি, তা আমাদের জন্য...একজন শিল্পী হিসাবে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। এ জিনিস আপনারা যা দেখে নিয়েছেন, দেখে নিয়েছেন...আগামীদিন অন্তত এই জিনিস আপনারা ভবিষ্যতে দেখবেন না।" 

Continues below advertisement

এ প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার বলেন, "ওঁর বিরুদ্ধে তো বহু অভিযোগ। এর আগেও অভিযোগ ছিল। এতদিন পুলিশ সাহস করত না। কে কাজ পাবেন কোন গিল্ড থেকে সেটা এই ভদ্রলোক ঠিক করে দিতেন। আপনি তাঁর বিরোধিতা করলে কাজ পাবেন না। আপনার বাড়িতে উনুনে হাঁড়ি চড়বে না। সেই ব্যবস্থা এই দুই ভাই মিলে করতেন। স্বরূপ আর অরূপ। দাদার নাম নিয়ে ভাই মস্তানি মারতেন। এখন সব বিচার হবে। কেউ ছাড় পাবেন না। প্রত্যেকটি অন্যায়ের হিসাব আমরা করব।"

মহিলার সঙ্গে অশালীন আচরণ, খুনের চেষ্টা, অস্ত্র আইনে মামলা এবং তোলাবাজির অভিযোগে, নিউ আলিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই ও তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁর বিরুদ্ধে নিউ আলিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এক মহিলা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গতরাতে সাহাপুর কলোনির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসকে। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিজেপি কর্মী ও স্থানীয়রা।