কলকাতা : "আজ আমরা ২০৭ এই শরীরি ভাষা নিয়ে যদি আমাদের দলের কেউ ময়দানে নেমে পড়েন, তাহলে পরিণতি কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। যে অনাকাঙ্খিত ডিম থেরাপি শুরু হয়ে যাবে, সেই ডিম কিন্তু ঘুরে অন্যদিকেও পড়তে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে।" দলের একাংশকে সতর্ক করে দিলেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। রাজারহাটে খড়গপুর IIT-র ক্যাম্পাসের অনুষ্ঠানে এই বার্তা দেন তিনি। 

Continues below advertisement

শমীক বলেন, "আমাদের অর্থমন্ত্রী চলে যাওয়ার আগে যে কথাটা বললেন যে ভুল যেখানে মনে করবেন সরাসরি বলে দেবেন, এটা ভুল হচ্ছে। প্রতিবাদ করবেন। প্রতিবাদকে বাজেয়াপ্ত করে কোনও সমাজ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। প্রতিবাদকে বাজেয়াপ্ত করে কোনও ব্যবস্থাকে দীর্ঘদিন টেনে নিয়ে যাওয়া যায় না। পৃথিবীতে সমস্ত একচেটিয়া একদলীয় একাধিপত্যের পতন হয়। আজ আমরা ২০৭ এই শরীরি ভাষা নিয়ে যদি আমাদের দলের কেউ ময়দানে নেমে পড়েন, তাহলে পরিণতি কিন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে। যে অনাকাঙ্খিত ডিম থেরাপি শুরু হয়ে যাবে, সেই ডিম কিন্তু ঘুরে অন্যদিকেও পড়তে পারে। এটা প্রত্যেককে মনে রাখতে হবে। আমার দলকেও মনে রাখতে হবে, আর যারা নতুন নতুন আমাদের দলে এসে গেছেন হঠাৎ...তাঁদের মধ্যে একটা নতুন কিছু করার, নতুন কিছু পাওয়ার চিন্তাভাবনা এসে গেছে। সেই সনাতনীরাও একটু সাবধান হবেন। কারণ ডিমের অভিমুখ বদলাতে বেশিক্ষণ সময় লাগবে না।"

তাঁর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে 'কালীঘাট তৃণমূল'-এর অন্যতম সদস্য তথা বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, "শমীক ভট্টাচার্যর কথাগুলি নিশ্চিতভাবে শুনতে ভাল লাগছে এবং আমি আশা করব, শমীক ভট্টাচার্য যা বলেছেন আন্তরিকভাবেই বলেছেন। কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে এর আগেও আমরা দেখেছি, শমীক ভট্টাচার্য যে গাইডলাইনটা ওই দলে ঠিক করে দেন, জেলায় জেলায় বহু লোক সেগুলো মানেন না। ওঁদের কর্মীরা সেগুলো মানেন না। শমীক ভট্টাচার্য একটা সময় বলেছিলেন যে তৃণমূল থেকে কাউকে নেবেন না। তারপরে দেখা গেল, তৃণমূল থেকে নেওয়া হচ্ছে। আবার ভাল তৃণমূল, খারাপ তৃণমূল এসে গেল। আবার এই ডিম নিয়ে আমি শমীকের বক্তব্য আগে দেখেছি। দায়িত্বশীল বক্তব্য। কিন্তু, দায়িত্ব-জ্ঞানহীন আচরণ তো ওঁর দলের অন্য লোকেরা করছেন এবং কর্মীরা করছেন। সেটা কার্যকর উনি করতে পারবেন কি না, সেটা উনি যতক্ষণ না করে দেখাচ্ছেন, ততক্ষণ এই কথাগুলো শুধু কথার কথা হিসাবে থেকে যায়।"

Continues below advertisement