কলকাতা : ডায়মন্ড হারবার মডেল ভেঙে চুরমার। ফলতা পুনর্নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী বিজেপি। চতুর্থ স্থানে তৃণমূল। দ্বিতীয় স্থানে উঠে এল সিপিএম। যে জাহাঙ্গিরের ভয়ে একটা সময় মানুষ ভোট দিতে ভয় পেতেন, আজ তাঁকেই লড়াইয়ের ময়দানে একেবারে শেষ প্রান্তে ফেলে দিয়েছে মানুষ। ৭১ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। এই জয় নিয়ে খুশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোনার ফলতা গড়ার আশ্বাস দিয়ে পোস্ট করলেন তিনি। তিনি বলেন, কুখ্যাত ডায়মন্ড হারবার মডেল ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে পরিণত হয়েছে। 

Continues below advertisement

বড় ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিলেন বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা। তিনি ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটে জয়ী হয়েছেন। ২২ রাউন্ডের পর তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সিপিএম-এর শম্ভুনাথ কুড়মি। তাদের প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজার ৬৪৫। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লা পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪টি ভোট। জাহাঙ্গিরের সমর্থনে EVM-এ ভোট পড়েছে ৭ হাজার ৭৮৩।

বিজেপির এই জয়ের পর ফলতা নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোষ্ট করে বলেন, কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার’ মডেল পরিণত হলো ‘তৃণমূলের হার-বার’ মডেলে। তারপর ফলতার জনগণকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পোস্টে লেখেন, ''সর্বপ্রথমে আমি ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী শ্রী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য ফলতার জনতা-জনার্দন গণদেবতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানাই। ফলতার ভোটারদের কাছে বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ, বিজেপির প্রার্থী কে এক লক্ষ ভোটে জেতানোর আবেদন করেছিলাম, জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়েছে। উন্নয়নের মাধ্যমে আপনাদের এই ঋণ শোধ করব। সোনার ফলতা গড়ার জন্য আমরা দায়বদ্ধ। একটি নীতি-আদর্শহীন দল, যা মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারাতেই তার কঙ্কালসার দশা উন্মোচিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শক্তির অপব্যবহার করে সরকারি ধন লুঠ, মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ তোলাবাজি, সিন্ডিকেট ও থ্রেট কালচারের মাধ্যমে কেড়ে নিয়ে এই দলের নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছিল।''

Continues below advertisement

আরও পড়ুন - 'ভীতিপ্রদর্শন পরাজিত হয়েছে', ফলতায় গেরুয়া ঝড়ের পর কী বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ?

তৃণমূলকে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ''প্যারাসুটে নেমে সেনাপতি আখ্যা পাওয়া এক জালিয়াত, এমন কোনো অপরাধ নেই যা সংগঠিত করেনি। নিজের অপরাধ সিন্ডিকেটকে প্রতিষ্ঠিত করতে গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করতেও কোনো কসুর করেনি এই ‘বাঘের ছাল পরিহিত বেড়াল’। ফলস্বরূপ, বিগত নির্বাচনকে পরিহাসে পরিণত করে এই বিধানসভা ক্ষেত্রে দেড় লাখ ভোটের লিড নিয়েছিল তৃণমূল। ১৫ বছর পরে যখন মানুষ নিজের ভোট নিজে দেওয়ার স্বাধীনতা ফিরে পেলেন, তখন আসল বাস্তব প্রকাশিত হলো। এ তো সবে শুরু, প্রত্যাখ্যানের দীর্ঘ যাত্রা এবার অতিক্রম করতে হবে। আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের সামনে নির্বাচনে ‘নোটা’-র বিরুদ্ধে কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’-র কাছেও পরাজিত হয়েছে। আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গেও এই জমজমাট লড়াই প্রত্যক্ষ করার অপেক্ষায় রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গবাসী...!''