ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: দুবরাজপুরে বেআইনি বালি কারবারকে কেন্দ্র করে প্রাণ গেল এক বিজেপি কর্মীর। বৃহস্পতিবার রাতে পলাশডাঙ্গা গ্রামে বালি বোঝাই ট্রাক্টরের ধাক্কায় মৃত্যু হয় রঞ্জিত রুইদাসের (৪০)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রাত ৯টা নাগাদ এই ঘটনা ঘটে।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: পিপিএফের অ্যাকাউন্টের মেয়াদ শেষের পর যদি টাকা না তোলেন তাহলে কী হবে?

অভিযোগ, হিংলো নদী থেকে রাতের অন্ধকারে বেআইনিভাবে বালি তোলা হচ্ছিল। সেই বালি বোঝাই ট্রাক্টরের সরকারি চালান রয়েছে কি না, তা দেখতে গিয়েছিলেন রঞ্জিত। তখনই তাঁর উপর দিয়ে ট্রাক্টর চালিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

Continues below advertisement

মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, বেআইনি বালি কারবারে টাকা তোলার কাজে বাধা দেওয়াতেই এই ঘটনা ঘটেছে। তাঁদের দাবি, প্রতিটি বালি বোঝাই ট্রাক্টর থেকে ৬০০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে চালান পিছু ২০০ টাকা করে চালকদের দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বর্ষাকালে নদী থেকে বালি তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও রাতের অন্ধকারে বীরভূমের বিভিন্ন এলাকায় বালি কারবার চলছে। এই ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করার সময় দিলেন রাষ্ট্রপতি, ১০ নেতা যাবেন সাক্ষাতে

রঞ্জিতের মৃতদেহ ঘটনাস্থলে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন স্থানীয়রা। পরে দুবরাজপুর থানার পুলিশ সেখানে পৌঁছলে পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ দেখানো হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। এরপর গভীর রাতে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেআইনি বালি উত্তোলন ও পরিবহণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।               

অন্যদিকে, সিউড়িতে এক প্রাক্তন বালিঘাটের কর্মীর বাড়িতে পুলিশি তল্লাশি। ২০২০ সালের আগে বালিঘাটের কর্মী হিসেবে কাজ করতেন প্রভাত মণ্ডল। সিউড়িতে ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। অভিযোগ, ২০২০ সালের পর ভূমি দফতরের এক প্রাক্তন ডেপুটি ডিএলআরও-র সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হওয়ার পর থেকেই প্রভাত ও তাঁর স্ত্রী জলির সম্পত্তি বাড়তে শুরু করে। বর্তমানে সিউড়ির সমন্বয়পল্লিতে তাঁদের তিনতলা বাড়ি রয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, জলির নামে-বেনামে প্রায় পাঁচটি চারচাকা গাড়িও রয়েছে।