কলকাতা: ৭ বছর আগে ঘরছাড়া হয়েছেন। কাজ শেষের পর কেটে গেছে ২ বছর। কিন্তু এখনও নিজের ঘরে ফেরা হয়নি। আরও একটা পুজো আসতে চলল। কিন্তু মন ভাল নেই বউবাজারের। KMRCL সূত্রে খবর, নির্দিষ্টি নিয়ম মেনে কাজ করতে গিয়ে সময় লাগছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

Continues below advertisement

ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর গ্রিন লাইনে কাজের জেরে ভয়ঙ্কর বিপর্যয়ের সাক্ষী হয়েছে বউবাজার। ২০১৯ সালে, ৩১ অগাস্ট, দুর্গাপুজোর আগে নেমে আসে বিপর্যয়। মাটির নীচে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার সময় বউবাজারের দুর্গাপিতুরি লেন ও স্যাঁকরাপাড়া লেনে ধসে যায় বহু বাড়ির একাংশ। একের পর এক বাড়িতে ধরে ফাটল।

সেই ঘটনার তিন বছর পর ২০২২ সালের ১১ মে একই আতঙ্ক ফিরে আসে বউবাজারে। সুড়ঙ্গে কাজ চলাকালীন, ফের ফাটল ধরে দুর্গাপিতুরি লেনের একাধিক বাড়িতে। এরপর ২০২২ সালেরই ১৪ অক্টোবর, পুজের আগে বউবাজারে মদন দত্ত লেনে ফিরে আসে ফাটল আতঙ্ক। 

Continues below advertisement

তবে অবশেষে কাজ শেষের পর পাতাল পথে দৌড়চ্ছে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো। কিন্তু ৭ বছর আগের সেই ফাটল এখনও মেরামত করা যায়নি! বিপর্যয় কাটিয়ে ২০২৪ সালে ২২ অগাস্ট চালু হয় ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর সম্পূর্ণ পরিষেবা। গ্রিন লাইনে সল্টলেক থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত চালু হল মেট্রো। তবে এখনও স্থানীয়দের ফেরা হয়নি ঘরে।

আরও পড়ুন:- ফের একবার হালিশহরে আক্রান্ত তৃণমূলকর্মীর পরিবারের সদস্য, অভিযোগের তীর বিজেপির দিকে 

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বলা হয়েছিল কাজ শেষের ২ বছরের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এতদিনেও সেই কাজ শেষ হয়নি। কয়েকটি বাড়ি সারানো হলেও, নতুন করে তৈরি হয়নি কোনও বাড়ি। এক স্থানীয় জানান, ‘৭ বছর আমরা সদ্য ফিরেছি। পাড়ার অবস্থা চোখে দেখা যায় না। অসুবিধা করে থাকতে হচ্ছে।’

সূত্রের খবর, নতুন করে দোতলা বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার কথা ছিল তিনটি, তিনতলা বাড়ি ১৬টি এবং চারতলা বাড়ি তৈরি হওয়ার কথা ছিল পাঁচটি। কিন্তু অভিযোগ, কথা রাখেনি মেট্রো রেল। বউবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘সারাই ঠিকমতো হয়নি। জল পড়ে। অধিকাংশ লোক ফিরতে পারেনি। অপেক্ষা করছে।’ 

KMRCL সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে বাড়ি তৈরি করতে সময় লাগছে। যত দ্রুত সম্ভব বাড়িগুলি তৈরি করে মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে।